
ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই একদিনে যেমন বেড়েছে ভারতের বাজার, তেমনই ভারতীয় মুদ্রাও শক্তিশালী হয়েছে ডলারের সাপেক্ষে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি হয়ে যাওয়ার পর বাণিজ্য মহল আশা করেছিল যে আমেরিকা এবার হয়তও ভারতের সঙ্গে সমঝোতায় আসবে। আর হলও তাই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবার নিজে ঘোষণা করলেন এই চুক্তির কথা।
এই বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা হওয়ার পরই একদিকে যেমন আশা বেড়েছে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের মনে, তেমনই আশাবাদী হয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও। আর এই সবের প্রভাবেই ভারতীয় মুদ্রা বেড়েছে ১.৩ শতাংশ। এতে ১ ডলারের দাম কমে হয়েছে ৯০ টাকা ২২ পয়সা। যা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর একধাক্কায় এতটা বেশি উত্থান। উল্লেখ্য, এই চুক্তির কথা সামনে আসার আগেই ভারতীয় মুদ্রা বেশ কিছুটা শক্তিশালী হয়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছিল। আর তারপর এদিন চুক্তির খবর সামনে আসার পর আরও অনেকটা বাড়ল ভারতীয় টাকার দাম।
উল্লেখ্য, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের উপর পাল্টা যে শুল্ক চাপানো হয়েছিলও তা ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশ হতে চলেছে। এ ছাড়াও নাকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্মত হয়েছেন, ভারত আগামীতে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে ও আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার থেকে তেল কিনবে। যদিও এই নিয়ে এখনও ভারতের তরফে কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় ভারত অন্যান্য প্রতিবেশি দেশের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা পাবে এটা ঠিক কথা। একই সঙ্গে তাঁরা এই আশাও করছেন এই কর কমায় ভারতের বাজারে লাভ বাড়বে। আর সেই সুবিধা নেওয়ার জন্য বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা হানা দেবে ভারতের বাজারে আর যার প্রভাবে অবশ্যই বাড়তে থাকবে ভারতের দুই শেয়ার সূচক নিফটি ৫০ ও সেনসেক্স। এবং বিশেষজ্ঞরা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পদক্ষেপের দিকেও তাকিয়ে রয়েছে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।