
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরই যেন আমেরিকার সঙ্গে ভারতের এতদিনের শুল্কযুদ্ধের অবসান ঘটল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের সঙ্গে এই ডিলের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথাও নাকি তিনি বলেছেন। আর তার পরই বদলে গিয়েছে ট্যারিফের গোটা সমীকরণ।
এর আগে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর ও ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বসিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থাৎ, মোট শুল্ক পৌঁছে গিয়েছিল ৫০ শতাংশে। কিন্তু এখন জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনার পর সেই ট্যারিফ কমিয়ে সরাসরি ১৮ শতাংশে নামিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল, এই হার বর্তমানে চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।
এই খবর সামনে আসার পর থেকেই বাজারে একটা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে অটো সেক্টর থেকে শুরু করে টেক্সটাইল ও প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এই সিদ্ধান্ত খুবই স্বস্তির। আগামী দিনে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বাড়ার সম্ভাবনাও জোরাল হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল দক্ষিণ কোরিয়ার পর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম শুল্ক লাগবে ভারতের উপরই। শতাংশের বিচারে যা ১৮ শতাংশ।
অর্থাৎ, অন্যান্য উন্নয়নশীলদেশ অর্থাৎ, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর উপর আমেরিকার বসানো করের হার ভারতের উপর বসানো করের হারের তুলনায় বেশি। এমনকি পাকিস্তানের উপর ১৯ শতাংশ কর বসিয়েছে আমেরিকা। সব মিলিয়ে ইউরোপীউ ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা। আর আগামী কয়েকটা মাসেই এই চুক্তির প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে।