
হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশনে গেলে আপনি বিভিন্ন ধরনের ট্রেন দেখতে পান। বিভিন্ন রঙ, আলাদা আলাদা চেহারার ট্রেনের কামরা। কিন্তু এই রঙ কি কেবলই সাজসজ্জা? নাকি অন্য কিছু? আসলে, এর পিছনে লুকিয়ে আছে রেলের এক অন্য হিসাব।
লাল ও নীল রংয়ের কোচের তফাত কী? আসলে নীল কোচগুলো পুরাতন আইসিএফ কোচ। যে কোনও সাধারণ ট্রেনে এই রংয়ের কোচ দেখা যায়। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম ট্রেনে ব্যবহার করা হয় লাল রংয়ের এলএইচবি কোচ। শুরুর দিকে রাজধানী এক্সপ্রেসে এই রংয়ের কোচ ব্যবহার করা হত। বর্তমানে, আকাশি রংয়ের এলএইচবি কোচও দেখা যায়। যে কোচ সাধারণত ব্যবহৃত হয় শতাব্দী এক্সপ্রেসে।
আধুনিকতার সঙ্গে সস্তায় এসি সফর করতে চাইলে আপনার ভরসা সবুজ রঙের ‘গরিব রথ’। অন্যদিকে, মেরুন রঙের কোচ এখন মূলত হেরিটেজ ট্রেনে ব্যবহার করা হয়। এই কোচ ভারতীয় রেলের সোনালী অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এ ছাড়াও কিছু ট্রেনে হলুদ-সবুজের উপর নীল দাগ দেওয়া এক সুন্দর রংয়ের কামরা দেখা যায়। দুরন্ত এক্সপ্রেসে এই রংয়ের কামরা দেখা যায়। এ ছাড়াও রয়েছে হামসফর এক্সপ্রেসের কামরা। সবুজ বা নীলের উপর নকশা করা এই ডিজাইন এক কথায় অনন্য। এ ছাড়াও হলুদ স্ট্রাইপ দেওয়া কামরা আসলে পার্সেল ভ্যান।
ট্রেনের একেবারে শেষ বগিতে হলুদ রঙের একটি বড় ‘X’ চিহ্ন থাকে। এ ছাড়াও শেষ বগির পর একটা ‘LV’ লেখা বোর্ডও ঝোলে। LV মানে লাস্ট ভেহিকল। অর্থাৎ এই বোর্ড দেখলে বোঝা যায় এই ট্রেনের কোনও অংশ আলাদা হয়ে যায়নি।