
দেশের বৃহত্তম বিমান পরিবহন সংস্থা হল ইন্ডিগো। আর এবার তারাই কাঠগড়ায়। ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া। কিন্তু কেন? কারণ, ইন্ডিগোর একাধিক ফ্লাইট বাতিল ও বিমানের টিকিটের দামের আকাশ ছুঁয়ে ফেলা। ভারতের উড়ান ক্ষেত্র খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এমন বাজারে ইন্ডিগোর শেয়ার রয়েছে ৬৫ শতাংশ। ইন্ডিগোর এই আধিপত্যই কি তাহলে ভারতের বাজারের জন্য খারাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? সেই উত্তরই খুঁজছে ভারতের কম্পিটিশন কমিশন।
২০০৬ সালে যখন রাহুল ভাটিয়া এবং রাকেশ গ্যাংওয়াল পথ চলা শুরু করেন, তখন ইন্ডিগোর হাতে ছিল ভারতের মাত্র ১০ শতাংশ বাজার। ইন্ডিগোর যে আসল সাফল্য, সেটা লুকিয়ে ছিল অন্যদের ব্যর্থতায়। ২০০৭-০৮ সালে যখন এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের সংযুক্তিকরণ হয়, সেই সময় ভারতের এভিয়েশন মার্কেটে একাধিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আর এই সুযোগেই ডানা মেলা শুরু করে ইন্ডিগো। বিজয় মালিয়ার কিংফিশার যখন ধীরে ধীরে ডুবছে, সেই সময় ফাঁকা জায়গা ভরাট করতে শুরু করে ইন্ডিগো।
বাজারের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ২০১২ সালের মধ্যে দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো লাভজনক রুটে ইন্ডিগোর সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা একলাফে বেড়ে যায়। এই সংখ্যা ৬০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯০০-তে।
২০১৪ সালে স্পাইসজেটের খারাপ সময়। সেই সময় ইন্ডিগো ৩১ শতাংশ বাজার দখল করে ফেলেছে। এরপর অতিমারির সময় যখন বাকি সব বিমান সংস্থা হাত গুটিয়ে বসে ছিল, ইন্ডিগোর হাতে আসে ৪৪টি নতুন বিমান। আজ তারা প্রতি মাসে ৪-৫টি নতুন বিমান তাদের ফ্লিটে যুক্ত করছে। ফলে, এভিয়েশনের মতো অলাভজনক ক্ষেত্রে প্রতিযোগীরা যখনই মাঠ ছেড়েছে, ইন্ডিগো সবার আগে সেই ফাঁক পূরণ করছে। আর এই ‘ফার্স্ট মুভার’ হওয়াতেই দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে ইন্ডিগোর মার্কেট শেয়ার।
আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন, বাজারে প্রতিযোগীর অভাব থাকলে পরিষেবার মান কমতে শুরু করে। গত কয়েক মাসে ইন্ডিগোর অপারেশনাল মেল্টডাউন বা পরিষেবা বিপর্যয় সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। পাইলটদের রস্টার সমস্যা থেকে শুরু করে গণহারে ফ্লাইট বাতিল, এই ঘটনাগুলো সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
যখন একটি সংস্থার হাতে বাজারের ৬৫ শতাংশের দখল থাকে, তখন সাধারণ যাত্রীর বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ কমে যায়। সিসিআই তদন্ত করছে যে, এই একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইন্ডিগো কি নিয়ম ভাঙছে?
দেশের অ্যাভিয়েশন সেক্টরে একটা প্রতিযোগিতা নিয়ে আসতে কেন্দ্র একটা পদক্ষেপ করেছে। সম্প্রতি ৩টে নতুন সংস্থাকে ছাড়পত্র দিয়েছে ভারত সরকার। শঙ্খ এয়ার, আল হিন্দ এয়ার ও ফ্লাই এক্সপ্রেস নামের ৩টে সংস্থাকে ইতিমধ্যেই এই ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র।
তবে সময় পাল্টাচ্ছে। টাটা গোষ্ঠীর হাত ধরে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ভিস্তারা এখন এক ছাতার তলায়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা মাঠে নামতেই ইন্ডিগোর একাধিপত্যে ফাটল ধরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও নতুন ৩ সংস্থাও খুব দ্রুতই তাদের পরিষেবা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১৯ বছর ধরে ইন্ডিগো অন্যদের ছেড়ে যাওয়া ছোট ছোট ফাঁক গলে ঢুকে সাম্রাজ্য গড়েছে। এবার অপারেশনাল ব্যর্থতার মাধ্যমে তারা নিজেরাই সেই জানলাটা অন্যদের জন্য খুলে দিল কি না, সেটাই এখন দেখার।