
ভারতের সবচেয়ে আধুনিক ট্রেন হল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। আমরা, যারা সাধারণ মানুষ যখন দেখি পাশের রেল লাইন দিয়ে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলে যাচ্ছে, সেই ‘পথের পাঁচালি’র মতো আমরাও তাকিয়ে থাকি ধাবমান ট্রেনটির দিকে। আর আপনি যদি কোনও বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের দিকে দেখেন, যে কোনও প্রথম শ্রেণীর কামরার সঙ্গে যে তফাতটা দেখতে পাবেন, সেটা হল বন্দে ভারতের কোনও কোচে কোথাও রেল জোনের নাম লেখা নেই।
ভারতীয় রেলে এই মুহূর্তে ১৯টি জোন রয়েছে। আর প্রতিটা জোনে যে ট্রেন চলে তার কামরায় লেখা থাকে জোনের নাম। পূর্ব রেলওয়েতে চলা কোচগুলোয় লেখা থাকে ER, মধ্য রেলওয়েতে চলে কোচে লেখা থাকে CR, পূর্ব মধ্য রেলওয়েতে চলা কোচগুলোয় লেখা থাকে ECR। এমনকি ট্রেনের ইঞ্জিনেও সেটি কোনও কারশেডের ইঞ্জিন, সেটা লেখা থাকে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য বিষয় দেশের বিভিন্ন জোনে চলা বন্দে ভারত ট্রেন সেট বা বন্দে ভারতের কোচগুলোয় কোনও জোনের নাম লেখা থাকে না। বদলে লেখা থাকে ভারতীয় রেলওয়ে।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে কোনও জোনের নাম না থাকার পিছনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের একটি প্রতিচ্ছবি। ফলে, এই ট্রেনকে বিশেষ কোনও জোনের না ধরে, গোটা দেশের জাতীয় সম্পত্তি বলে মনে করা হয়। এ ছাড়াও বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের প্রতীক।
রেল কোচে ভারতীয় রেলওয়ে লেখার আরও একটা কারণ হল গোটা দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই ট্রেনের ভূমিকা অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে, জাতীয় রেল নেটওয়ার্কে এই ট্রেন সবসময় অগ্রাধিকার পায়।
আলাদা আলাদা জোনের আলাদা আলাদা ট্রেন না থাকায় পরিষেবা আরও নমনীয় হয়। ফলে, বন্দে ভারতের জন্য রেল জোনগুলোর আলাদা বাজেটের প্রয়োজন হয় না। একই জায়গা থেকে এই ট্রেনের জন্য টাকা খরচ হয়।
পুরনো যাত্রীবাহী রেল কোচগুলোয় বিভিন্ন রেলওয়ে জোনের চিহ্ন থাকে। কারণ, এই ট্রেনগুলো সেই সব জোনই রক্ষণাবেক্ষণ করে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ভারতীয় রেলের অধীনে আলাদা আলাদা কোচ থেকে অধুনিক ট্রেনসেটের দিকে বদলের ও আধুনিকীকরণের দিকেই নির্দেশ করে।