
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতে পড়তে শুরু করেছে। প্রথমে জ্বালানি সংকট। আর এখন সংঘাতের প্রভাব পড়ছে চিকিৎসা খাতে। বিশেষ করে মেডিক্যাল ট্যুরিজমের বাজারে। ভারতের বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওমান, সৌদি আরব, ইরান, ইরাক ও ইয়েমেনের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে আসা রোগীর সংখ্যা ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে।
বিদেশি রোগী থেকে আয়
২০২৩ সালের FICCI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতের মেডিক্যাল ট্যুরিজম খাতে প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার ছিল। তবে. ২০২৬ সালের মধ্যে ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের পর্যটন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে ২১,৩৬০ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৩২,১৮৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং ২০২৪ সালে আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫,০১৬ মিলিয়ন ডলার।
২০২০–২১ অনুযায়ী, বিশ্বে ৪৬টি দেশের মধ্যে মেডিক্যাল ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে ভারতের অবস্থান দশম। পাশাপাশি, বিশ্বের শীর্ষ ২০টি ওয়েলনেস ট্যুরিজম বাজারের মধ্যে ভারত ১২তম। ২০২০ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের মেডিক্যাল ভ্যালু ট্রাভেল খাত বছরে গড়ে ২১.১ শতাংশ হারে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে মেডিক্যাল ট্যুরিজমে বারবার ওঠানামা দেখা গিয়েছে। ২০২১ সালে কোভিডের সময় পর্যটক সংখ্যা কমে ১৫,২৭,১১৪-এ নেমে এলেও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগত পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩,২৩,৭৪৮। ২০২২ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৪,৭৪,৭৯৮। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা আরও বেড়ে ৬,৫৯,৩৫৬-এ পৌঁছায়। তবে ২০২৪ সালে সামান্য কমে তা দাঁড়ায় ৬,৪৪,৩৮৭। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মেডিক্যাল ট্যুরিস্টের সংখ্যা ৪,৫০,৬৩৩।
পর্যটন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতে আসা মোট পর্যটকের প্রায় ১৮ শতাংশই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এসেছেন—যা যে কোনও অঞ্চলের তুলনায় সর্বোচ্চ। এর ফলে বোঝা যায়, অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পর্যটকদের বড় একটি অংশই চিকিৎসার জন্য ভারতকে বেছে নেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী পাঠিয়েছে ৪,৮২,৩৩৬। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির মধ্যে ইরাক থেকে ৩২,০০৮ জন এবং ওমান থেকে ১০,৪৩১ জন চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন মিশর থেকে ৬৬,৭০৩ জন। তারপরই রয়েছে ইরাক (৬৬,৬৯৯), এরপর জর্ডান (৪৬,১৬৭) এবং কুয়েত (৪০,২৪৭)।