
শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কলকাতার রিয়েল এস্টেট বাজার যে ম্যাজিক দেখালো, তা অনেক বড় মেট্রো শহরকেও ঈর্ষায় ফেলতে পারে। নাইট ফ্রাঙ্ক ইন্ডিয়ার (Knight Frank India) সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, তিলোত্তমার অফিস বাজারের গ্রাফ এখন রকেটের গতিতে ছুটছে।
আপনি কি জানেন, গত ছয় মাসে কলকাতায় অফিস লিজ নেওয়ার হার বেড়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ? রাজারহাট-নিউ টাউন ও সল্টলেক সেক্টর ফাইভ; এই দুই এলাকা একাই ৯৫ শতাংশ লিজ দখল করে রেখেছে। ফ্লেক্স-স্পেস বা আইটি সেক্টরের দাপটে কলকাতায় অফিসের ভাড়া বেড়েছে ১৬ শতাংশ। যা দেশের আটটি প্রধান শহরের মধ্যে দ্রুততম।
অফিস ভাড়ায় রেকর্ড গড়লেও, থাকার জায়গার ক্ষেত্রে কলকাতা এখনও সাধারণ মানুষের বন্ধু। বর্তমানে কলকাতায় বাড়ির গড় দাম প্রতি বর্গফুটে ৪ হাজার ৩৭ টাকা। দেশের অন্যতম ‘অ্যাফোর্ডেবল’ বা সস্তা আবাসন বাজার হিসেবে নিজের তকমা ধরে রেখেছে এই শহর। আবাসন বিক্রি বেড়েছে ৭ শতাংশ। দীর্ঘ ১০ বছরে অবিক্রিত বাড়ির সংখ্যা এখন সর্বনিম্ন। অর্থাৎ, জোগান ও চাহিদার মধ্যে এক চমৎকার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিসের চাহিদা বাড়ার অর্থ হলো কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে। সস্তায় ভালো বাসস্থান এবং ক্রমবর্ধমান অফিস ডিমান্ড—এই দুইয়ের মিশেল কলকাতাকে স্থিতিশীল বিনিয়োগের সেরা ঠিকানা করে তুলছে।
পরবর্তী ৬ মাস কলকাতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাহিদা বজায় থাকলে ২০২৬-এর শুরুতেই হয়তও কলকাতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।