
দেশের অন্যতম বড় সঞ্চয় ভাণ্ডার পরিচালনা করে লাইফ ইন্সিওরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এলআইসি। প্রায় ৫৭ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অ্যাসেট ম্যানেজ করে এলআইসি। ফলে এলআইসিকে শুধুমাত্র বিমা সংস্থা বলে ধরলে অত্যন্ত ভুল করা হবে। এলআইসি ভারতের শেয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও অন্যতম। বিমা ও আর্থিক, দুই ক্ষেত্রেই তাদের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
শেয়ার বাজারে এলআইসি রেজিস্টার্ড হওয়ার পর সংস্থার শেয়ার দীর্ঘমেয়াদে বিরাট কিছু রিটার্ন দিতে না পারলেও কোটি কোটি পলিসি-হোল্ডারের কাছে তা এখনও নিরাপদ সঞ্চয়ের প্রতীক। কারণ এলআইসিতে এনডাওমেন্ট পলিসি যাঁরা করেন, তাঁদের কাছে দ্রুত মুনাফার তুলনায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল সঞ্চয়ই মুখ্য।
একসময় এলআইসির শেয়ারের দাম ঠেকে গিয়েছিল হাজার টাকার কাছাকাছি। যদিও বর্তমানে সেই শেয়ারের দাম ঘোরাফেরা করছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। ফলে, গত ৫ বছরের নিরিখে এলআইসির শেয়ার এমন কিছু রিটার্ন দেখা যায়নি। আর্থিক দিক থেকে দেখলে বোঝা যাবে, সংস্থার জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের ত্রৈমাসিকে নিট প্রফিট হয়েছে ১০ হাজার কোটির বেশি। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ বেশি। এ ছাড়াও প্রিমিয়াম থেকে উপার্জনও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২৬ হাজার কোটি টাকা।
এলআইসি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি মেনে চলে। তাদের অন্তত ৫০ শতাংশ তহবিল চলে যায় সরকারি সিকিওরিটিজে। বাকি অংশ বিনিয়োগ হয় শেয়ার, বন্ড ও একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্পে। তাই এলআইসির মাধ্যমে বিনিয়োগ থেকে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো রিটার্ন আশা করা ঠিক নয়। এটি মূলত নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্প।