
এবার কি ভারত মহাসাগরে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে চলেছে আমাদের দেশ? এমন প্রশ্ন কিন্তু অমূলক নয়। কারণ, কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক ৪৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার দুটি মেগা প্রকল্পের গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। লক্ষ্য একটাই, ভারতকে বিশ্বমানের শিপবিল্ডিং হাবে পরিণত করা। ২০৩৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর এই প্রকল্পে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ আর্থিক সাহায্য দেবে সরকার।
এই দৌড়ে সবার আগে রয়েছে দেশের তিন ‘মহারথী’। মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স ও কোচিন শিপইয়ার্ড। আপনি যদি শেয়ার বাজারের দিকে নজর রাখেন, তবে জানবেন মাজাগাঁও ডকের হাতে রয়েছে ৩ লক্ষ কোটি টাকার অর্ডার। কিন্তু আমাদের বাংলার গর্ব গার্ডেনরিচও খুব একটা পিছিয়ে নেই। ২০ হাজার ২০৫ কোটি টাকার অর্ডার বুক রয়েছে তাদের হাতেও।
গার্ডেনরিচ শুধু জাহাজ বানায় না, তারা এখন স্বয়ংচালিত আন্ডারওয়াটার ভেসেল ‘নীরাক্ষী’ও তৈরি করছে। কলকাতায় বসে ইউরোপের বাজারের জন্য ইলেকট্রিক ফেরি বানানো হচ্ছে। লক্ষ্য এতে ৮৫ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা। অর্থাৎ, স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মীদের জন্য কাজের নতুন দিগন্ত খুলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এখন শুধু ডিফেন্স নয়, বাণিজ্যিক জাহাজ রপ্তানিতেও নজর দিচ্ছে। কোচিন শিপইয়ার্ড যেমন গ্রিন ভেসেল বানিয়ে বিদেশের বাজার ধরছে, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সও সেই পথেই হাঁটছে। আগামীতে এই সেক্টরে আপনি নজর রাখতেও পারেন। কারণ, আগামী ১০ বছর ভারত সমুদ্র জয়ের স্বপ্ন দেখছে।