নতুন IPO-তে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন? কী কী জিনিস আগেই জেনে রাখা দরকার?
Investment Tips: IPO তে বিনিয়োগ করতে হলে আপনার প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং শেয়ার ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকতে হবে। IPO বিডিং-এর জন্য নির্দিষ্ট সময় এবং নির্ধারিত প্রাইস ব্যান্ড সহ খবরের কাগজ আর মিডিয়াতে প্রচার করা হয়।

শমিতা সাহা, SEBI শংসায়িত বাজার বিশেষজ্ঞ
ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিও(IPO) -র কথা অনেকেই শুনেছেন। তবে এটা কি, তা অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না। আসলে যখন কোনও কোম্পানি নিজের শেয়ার প্রথমবার শেয়ার বাজারে ছাড়ে, সেই পদ্ধতিকে বলা হয় আইপিও (IPO)। ধরুন, দুই বন্ধু মিলে একটি কোম্পানি চালু করেছে সমান মূলধন লাগিয়ে। কোম্পানিটি ভাল চলছে এবং কিছু বছর পরে কোম্পানির বৃদ্ধির জন্য আরও মূলধন প্রয়োজন। তখন কোম্পানির মালিকদের কাছে একটি উপায় হল, কোম্পানির শেয়ার জনসাধারণের কাছে নিয়ে যাওয়া আইপিও (IPO)-র মাধ্যমে। যতক্ষণ দুই বন্ধু মালিক, ততক্ষণ কোম্পানির দুটি শেয়ার হোল্ডার। তার মানে কোম্পানি যদি কোনও দিন বিক্রি হয়ে যায়, তাহলে বিক্রি করে যা টাকা পাওয়া যাবে, তা দুই বন্ধুর মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে।
IPO জনসাধারণের থেকে প্রাথমিক ভাবে মূলধন জোগাড় করার একটি অন্যতম উপায়। একটি কোম্পানির যখন মূলধনের প্রয়োজন, সে তখন শেয়ার বাজার রেগুলেটর সেবি(SEBI)-র কাছে প্রাথমিক বাজারে (প্রাইমারি মার্কেট) আইপিও (IPO) পেশ করার দরখাস্ত করে। আইপিও-টি সুষ্ঠ ভাবে করার জন্য মার্চেন্ট ব্যাঙ্কিং কোম্পানিরা সাহায্য করে। যেমন, কত দামে শেয়ার বাজারে আইপিও ছাড়া হবে, কত আনুমানিক মূলধন তোলা যাবে, শেয়ারহোল্ডাররা কে, কত শেয়ার পাবে, নতুন শেয়ার হোল্ডার আসার পরে কোম্পানির প্রথম মালিকদের কত শতাংশ দখল কোম্পানির উপরে থাকবে- এই সব কিছুই মূল্যায়ন করতে হয় আইপিও হওয়ার সময়। একবার যখন আইপিও হয়ে যায়, তারপর সেই কোম্পানির শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অর্থাৎ বিএসই, এনএসই (BSE, NSE) কেনা বেচা করা যায়।
IPO তে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন?
IPO তে বিনিয়োগ করতে হলে আপনার প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং শেয়ার ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকতে হবে। IPO বিডিং-এর জন্য নির্দিষ্ট সময় এবং নির্ধারিত প্রাইস ব্যান্ড সহ খবরের কাগজ আর মিডিয়াতে প্রচার করা হয়। আপনি অনলাইন বা অফলাইন দরখাস্ত করতে পারেন আইপিও কেনার জন্য। আপনার বিড অনুযায়ী অ্যাপ্লিকেশন মানি আপনারই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ব্লক করা থাকে এবং আপনার বরাদ্দ শেয়ার অনুযায়ী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেই সরাসরি টাকা কেটে নিয়ে অর্থাৎ ডেবিট করে বাকি অ্যাপ্লিকেশন মানি (টাকা) আনব্লক করে দেওয়া হয়। আপনার বরাদ্দ শেয়ার আপনার শেয়ার ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়া পূর্ণ হওয়ার পরে আপনি আপনার ইচ্ছে মতো আইপিও(IPO)-তে পাওয়া শেয়ার ধরে রাখতে পারেন অথবা বিক্রি করে দিতে পারেন। এতে কোনও বাধা নেই।
IPO-তে বিনিয়োগের আগে কী কী জেনে রাখবেন?
- কোম্পানির ব্যবসা সম্বন্ধে ভাল করে জেনে নিতে হবে, অর্থাৎ কীসের ব্যবসা, কত দিন ধরে চলছে, কী প্রোডাক্ট বিক্রি করছে, কোম্পানির আর্থিক স্বচ্ছলতা, লাভ, কোম্পানির মালিকদের ট্র্যাক রেকর্ড সমস্ত জেনে নিতে হবে।
- আরও জানতে হবে যে কোম্পানি টাকা তুলে সেই দিয়ে পুরাতন ধার শোধ করবে নাকি নতুন জিনিস তৈরি করবে, কিংবা রিসার্চ-ডেভেলপমেন্টে খরচ করবে। বলা বাহুল্য, যদি পুরাতন ধার শোধের জন্য টাকা তোলে, তাহলে নতুন ভাবে কোম্পানির গ্রোথ কিছু হবে না, ফলে যেই শেয়ার বিনিয়োগকারী কিনছেন, তার মূল্যবৃদ্ধি নাও হতে পারে।
- জেনে নিতে হবে কোম্পানি কীভাবে নিজেকে প্রতিযোগীদের তুলনায় আরও ভাল জিনিস বা সার্ভিস প্রদান করতে পারবে কি না, কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো পরিস্থিতি সুষ্ঠ কিনা ইত্যাদি।
