
নয়া দিল্লি: ১৯ মে বাজার থেকে ২০০০ টাকার নোট তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তারপর থেকে ফের ১০০০ টাকার নোট ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। জল্পনা রয়েছে, ৫০০ টাকার নোটও তুলে নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়েও। বৃহস্পতিবার (৮ জুন), এই বিষয়ে স্পষ্টতা দিল আরবিআই। এদিন মনিটারি পলিসি কমিটি বৈঠকের পর, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানিয়েছেন, ৫০০ টাকার নোট প্রত্যাহার করা বা ১০০০ টাকার নোট ফিরিয়ে আনার কোনও ভাবনা নেই আরবিআই-এর। নাগরিকদের এই বিষয়ে জল্পনা না করার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। শক্তিকান্ত দাস আরও জানিয়েছেন, গত মাসে ২০০০ টাকার নোট প্রত্যাহারের ঘোষণা করার পর থেকে, এর মধ্যেই বাজারে চালু ২০০০ টাকার নোটগুলির প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে।
গত মাসে, ২০০০ টাকার নোট প্রত্যাহারের ঘোষণা করার সময় আরবিআই নোটগুলি ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার বা বদলে নেওয়ার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। আরবিআই গভর্নর জানিয়েছেন, সেই ঘোষণার পরে ১.৮০ লক্ষ কোটি টাকার ২০০০ টাকার নোট ব্যাঙ্কে ফিরে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ গ্রাহকরা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা করেছেন। বাকিটা ব্যাঙ্কে বদলানো হয়েছে। শক্তিকান্ত দাস জানিয়েছেন, এই হিসেবটা ‘তাঁদের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ’। ২০০০ টাকার নোট জমা দেওয়া বা বিনিময় করার জন্য সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। তবে সতর্ক করেছেন, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।
২০০০ টাকার নোট বাতিলের সময় আরবিআই জানিয়েছিল, যে উদ্দেশ্যে ২০০০ টাকার নোট বাজারে ছাড়া হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। তারা জানিয়েছিল, ২০১৬ সালের নভেম্বরে নোটবাতিলের পর, বাজারে নোটের চাহিদা দ্রুত পূরণ করার জন্যই ২০০০ টাকার নোটগুলি ছাড়া হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে উপযুক্ত পরিমাণে ৫০০ টাকার নোট প্রচলিত আছে। তাই ২০০০ টাকার নোটের প্রয়োজন ফুরিয়ছে। আরও বলা হয়েছিল যে, প্রতিদিনের লেনদেনের কাজেও ২০০০ টাকার নোট বিশেষ ব্যবহার করা হয় না। তাছাড়া, ২০০০ টাকার নোটগুলির আয়ু ছিল ৫ থেকে ৬ বছর। ২০১৯ সালে শেষবার ২০০০ টাকার নোট ছেপে বাজারে ছাড়া হয়েছিল। কাজেই এখন যে নোটগুলি বাজারে রয়েছে, সেগুলির আয়ু প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ভারত সরকারের ‘ক্লিন নোট’ নীতির কারণে, এমনিতেই সেগুলি তুলে নিতে হত।