
নয়া দিল্লি: ব্য়াঙ্ক বা অন্য কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে, তারপরই অতিষ্ট হয়ে যেতে হয় ফোনের ঠেলায়। ব্যাঙ্ক থেকে বা রিকোভারি এজেন্ট ঘন ঘন ফোন করেন বকেয়া টাকা আদায় করার জন্য। তবে এবার গ্রাহকদের এই হেনস্থা থেকে রক্ষা করতে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। ব্য়াঙ্কের রিকোভারি এজেন্টদের জন্য কড়া নিয়ম আনা হচ্ছে।
সম্প্রতিই আরবিআই (কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কস-রেসপনসিবল বিজনেস কনডাক্ট) সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট ডিরেকশন ২০২৬ নামক খসড়া প্রস্তাবনা প্রকাশ করে। এই প্রস্তাবনাতেই ঋণ গ্রহীতাদের সুরক্ষা ও হেনস্থা থেকে রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঋণ নেওয়ার পর যাতে রিকোভারি এজেন্টরা হেনস্থা না করেন, তার জন্য একাধিক নিয়মের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রিকোভারি এজেন্ট হিসাবে নিয়োগের সময়ই কর্মীর ব্যবহার পর্যালোচনা থেকে শুরু করে কীভাবে কোনও অভিযোগ সামাল দেওয়া হবে, নজরদারি কীভাবে চালানো হবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা করতে হবে। রিকোভারি এজেন্টরা থার্ড পার্টির অধীনে কাজ করতে পারবে না। প্রতিটি ব্যাঙ্ক-কে লিখিত রিকোভারি পলিসি তৈরি করতে হবে।
যদি আরবিআই-র প্রস্তাবনা গৃহীত হয়, তাহলে ঋণ গ্রহীতাদের ইন্সটলমেন্ট দিতে সমস্যা হলে, ব্যাঙ্কেরই দায়িত্ব থাকবে তাদের বোঝানোর এবং কোনও উপায় পরামর্শ দেওয়ার। প্রতিটি ব্যাঙ্ক-কে তাদের ওয়েবসাইটে, অ্যাপে রিকোভারি এজেন্টদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে, যাতে গ্রাহকদের সুবিধা হয়।
যদি কোনও রিকোভারি এজেন্ট অভব্য আচরণ করেন বা নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে, তাও জানাতে হবে ব্যাঙ্ক-কে।
আরবিআই-র প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, রিকোভারি এজেন্টরা গ্রাহকদের সঙ্গে সকাল ৮টা থেকে সন্ধে ৭টার মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবেন। এর আগে বা পরে ফোন করা যাবে না। এছাড়া টাকা উদ্ধারের জন্য গ্রাহকের আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব বা সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিয়ে, শ্রাদ্ধ বা অন্য কোনও উৎসবের সময়ও গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
এছাড়াও বলা হয়েছে যে যখনই গ্রাহক পেমেন্ট করবেন, তখনই ব্যাঙ্ক-কে রিসিট দিতে হবে। কতবার রিকোভারি এজেন্টরা ফোন করছেন, তার রেকর্ডও রাখতে হবে। কী কথা হচ্ছে গ্রাহক ও এজেন্টের মধ্যে, তা রেকর্ড হবে এবং রেকর্ড করার আগে তা গ্রাহককে জানাতে হবে।
টাকা উদ্ধারের জন্য রিকোভারি এজেন্ট কোনও ধরনের গালিগালাজ বা অপমান, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হেনস্থা বা আইনি ভয় দেখাতে পারবে না। এ কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে আরবিআই।
প্রত্যেক রিকোভারি এজেন্টের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব ব্যাঙ্কিং ও ফিন্যান্সের ডিগ্রি থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত, এবারের বাজেটেও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও লোন রিকোভারির নিয়মে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।