
সপ্তাহের শেষের দিকে এসে ক্রমাগত পড়ছে রুপোর দাম। বৃহস্পতিবার ১ কেজি রুপোর দাম পড়ে যায় ১০ হাজার টাকা। শুক্রবার সেই দাম পড়ে যায় আরও বেশ কিছুটা। কিন্তু রুপোর বাজারে এই তীব্র অস্থিরতার কারণ কী?
রুপোর দামের এই পতনের পিছনে বিরাট বড় ভূমিকা নিয়েছে বার্ষিক কমোডিটি সূচকের পুনর্গঠন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকের পুনর্বিন্যাসের কারণে প্যাসিভ ফান্ডগুলো সেই সূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে তাদের হাতে থাকে থাকা রুপো বিক্রি করতে শুরু করে। একই ধরনের সমস্যা দেখা গিয়েছে সোনার ক্ষেত্রেও।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকেই রুপোয় সরবরাহের ঘাটতি দেখা যায়। এমনকি রুপোর প্রধান উৎপাদক দেশ চিনও তাদের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল। আর সরবরাহে এই ঘাটতির কারণেই রুপোর দামে রেকর্ড বৃদ্ধি দেখা যায়। এমনকি আউন্স প্রতি ৮৩.৬০ ডলারেও পৌঁছে গিয়েছিল রুপোর দাম। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রতি কেজিতে ২ লক্ষ ৬৬ হাজারের চেয়েও বেশি।
রুপোর এই মূল্যবৃদ্ধি কতটা বাস্তবসম্মত? এইচএসবিসি বলছে রুপোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় রুপোর দাম এমন একটা ক্ষেত্রে পৌঁছে যেতে পারে যা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির উপর প্রবল চাপ তৈরি করে। এর ফলে, ওই দাম আগামীতে হয়তও আর বজায় থাকবে না। অর্থাৎ, রুপোর দাম পড়তে পারে রকেট গতিতে।
রুপোর এই সরবরাহে ঘাটতির কারণে এক অদ্ভূত পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছে। এইচএসবিসির রিপোর্ট বলছে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন আউন্স বা ৬ হাজার ৫২০ কেজির বেশি রুপোর ঘাটতি রয়েছে। কাগজে বা ডিজিটালি যে পরিমাণ রুপো রয়েছে, বাস্তবে তার থেকে অনেক কম পরিমাণ রুপোর রয়েছে।
এইচএসবিসি তাদের রিপোর্টে এটাও বলছে সোনাকে যেতেহু বহু বছর ধরেই একটা সেফ হেভেন মানা হয়, ফলে যে কোনও অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থার কারণে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সোনা কিনতে শুরু করে। আর এমন অবস্থায় সোনার দাম আগামীতে আরও বাড়তে পারে। ফলে, সোনা নিয়ে রুপোর মতো দুশ্চিন্তা করার কোনও কারণ নেই, বলছেন বিশেষজ্ঞরাই।
এইচএসবিসির রিপোর্ট বলছে ২০২৫ সালে যে রুপোর দাম প্রতি আউন্সে ৮৩ ডলার পেরিয়েছিল, সেই রুপোই চলতি ২০২৬ সালে ঠেকতে পারে ৬৫.২৫ ডলার বা ১ কেজি রুপোর দাম ভারতীয় মুদ্রায় নামতে পারে ২ লক্ষ ৭ হাজার টাকায়। আগামী ২০২৭ সালে যা নামতে পারে ৫৭ ডলার বা ১ লক্ষ ৮১ হাজার টাকায় ও ২০২৯ সালে সেই একই রুপো নামতে পারে ৪৭ ডলার বা ১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকায়।
হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশনের এই রিপোর্ট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় রুপোর বর্তমান অবস্থা। আগামীতে রুপো কী অবস্থা হতে পারে সেটাও বলা হয়েছে এই রিপোর্টে। ফলে, রুপোর আগামীর অবস্থার উপর নজর থাকলেও রুপোয় বিনিয়োগ করা এই মুহূর্তে সঠিক কি না, তা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়।