
টাকা উপার্জন করা কষ্টের, কিন্তু সেই টাকাকে সঠিক ভাবে রাখা তার থেকেও বড় শিল্প। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে আপনার জমানো টাকা কি রয়েছে সেভিংস অ্যাকাউন্টে? যদি ফিক্সড ডিপোজিটের কথা ভাবেন, তবে বিনিয়োগের আগে থামুন। একটা বড় অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট করবেন নাকি ছোট ছোট একাধিক? আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে আপনার অর্থনৈতিক বুদ্ধির মাহাত্ম্য।
আপনি কি জানেন, ব্যাঙ্কে আপনার জমানো সব টাকা কিন্তু সুরক্ষিত নয়? নিয়ম বলছে, DICGC বিমার আওতায় একটি ব্যাঙ্কে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত সুরক্ষিত। অর্থাৎ, আপনি যদি ৭ লক্ষ টাকা একটিই অ্যাকাউন্টে রাখেন, তবে বিপদে পড়লে ২ লক্ষ টাকার কোনও গ্যারান্টি নেই। আর সেই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা ভাগ করে আলাদা ব্যাঙ্কে রাখা অনেক বেশি নিরাপদ।
আপনার হঠাৎ কোনও কারণে ৫০ হাজার টাকার প্রয়োজন পড়লে আপনি যদি একটিই বড় অঙ্কের ফিক্সড ডিপজিট করেন তাহলে আপনাকে গোটা ডিপোজিটই ভাঙতে হবে। আর একই সঙ্গে গুণতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। সেই কারণেই ফিক্সড ডিপোজিট ছোট অঙ্কের করা ভাল।
আপনার যদি ১ লক্ষ টাকার সাতটি ফিক্সড ডিপোজিট থাকে, তবে আপনি শুধু একটি ভাঙবেন। বাকি ৬ লক্ষ টাকার উপর সুদ পেতেই থাকবেন আপনি।
বাজারের হাওয়া সবসময় এক থাকে না। আজ সুদের হার ৭ শতাংশ, কাল তা বেড়ে ৮ শতাংশও হতে পারে। বড় ফিক্সড ডিপোজিটে আপনি আটকে পড়লে সমস্যা অনেক। কিন্তু ছোট ছোট বিনিয়োগ থাকলে, আপনি সহজেই একটি স্কিম থেকে বেরিয়ে বেশি সুদের নতুন স্কিমে টাকা সরাতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি ঝামেলাহীন বিনিয়োগ চান, তবে একটি ফিক্সড ডিপোজিট ভাল। কিন্তু আপনি যদি নমনীয়তা এবং নিরাপত্তা—দুটোই চান, তবে একটা বিরাট ফিক্সড ডিপোজিট কোনও ভাবেই ভাল নয়। টাকা এক জায়গায় না রেখে ছড়িয়ে রাখুন।
আগামী ত্রৈমাসিকে সুদের হার বদলাতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আর সেই কারণেই লম্বা মেয়াদে সব টাকা এক জায়গায় লক করার আগে অন্তত দু’বার ভাবুন। আপনার কষ্টার্জিত টাকা যেন আপনার ইশারায় চলে, ব্যাঙ্কের নিয়মে নয়।