
ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০২৫ সাল সহজ ভাষায় বললে বলা যায়, অগ্নিপরীক্ষার বছর। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি, অন্যদিকে বিশ্ব বাজারের টালমাটাল অবস্থা, সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের বাজার থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়ে গিয়েছেন। আপনি কি নিজের পোর্টফোলিও নিয়ে চিন্তিত? হওয়াটাই স্বাভাবিক।
পরিসংখ্যান বলছে, বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ার তাদের সর্বোচ্চ দাম থেকে ২০ শতাংশের বেশি নীচে নেমেছে। ৫ হাজার ১৮৫টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত থাকলেও মার্কেট ক্যাপ সেই হিসাবে ৪ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকাতেই থমকে। এই অস্থিরতায় আপনার প্রধান অস্ত্র হতে পারে এসআইপি।
বাজার যখন পড়ে, তখন আপনি একই টাকায় বেশি ইউনিট কিনতে পারবেন। একেই বলে ‘কস্ট অ্যাভারেজিং’। এককালীন বড় লগ্নিতে লোকসানের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু এসআইপি আপনাকে বাজারের ওঠানামা থেকে সুরক্ষা দেয়। ধৈর্য আর শৃঙ্খলা—এই দুইই হল সম্পদ বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি।
অনেকেই সিএজিআর দেখে ভুল করেন। কিন্তু এসআইপি-র ক্ষেত্রে আপনার দেখা উচিত এক্সআইআরআর (XIRR)। যেহেতু আপনি প্রতি মাসে আলাদা আলাদা সময়ে টাকা দিচ্ছেন, তাই এই পদ্ধতিই আপনাকে সঠিক বার্ষিক আয়ের হিসেব দেবে। মনে রাখবেন, শুরুর কয়েক বছর এই হার কম মনে হতে পারে। কিন্তু সময় দিলে চক্রবৃদ্ধি বা কম্পাউন্ডিং-এর জাদু আপনি স্পষ্ট দেখতে পাবেন।
মনে করুন, ৩০ বছর বয়সে আপনি মাসে ৩ হাজার টাকা করে বিনিয়োগ শুরু করলেন। ১২ শতাংশ রিটার্ন ধরলে, ৬০ বছর বয়সে আপনার হাতে আসতে পারে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকারও বেশি। লক্ষ্যের দিকে নজর দিন, সাময়িক অস্থিরতায় বিচলিত হবেন না। সঠিক মিউচুয়াল ফান্ড বেছে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাই আপনাকে আর্থিক স্বাধীনতা দিতে পারে।