
যে কোনও পরিবারের কাছে টার্ম ইন্সিওরেন্স কিন্তু কোনও বিলাসিতা নয়। আজকের দিকে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা বিষয়। কারণ, বেশিরভাগ পরিবারই নির্ভর করে থাকে একজনের উপার্জনের উপর। বাড়ি ভাড়া বা হোম লোনের ইএমআই, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, দৈনন্দিন খরচ বা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় খরচ, সব কিছুই যেখানে নির্ভর করে একজনের উপর। তাই ঠিক কত টাকার টার্ম ইন্সিওরেন্স করানো উচিত, তা নিয়ে একটা দ্বিধা তৈরি হয় অনেকের মনেই। যদি কেউ কম অ্যামাউন্টের বিমা করান, তাহলে ঝুঁকি বেশি। আর কেউ বেশি অ্যামাউন্টের বিমা করালে গুনতে হয় বেশি প্রিমিয়াম।
টার্ম ইন্সিওরেন্স শুধুমাত্র টাকার অঙ্ক দিয়ে বিচার করলে হয় না। প্রশ্নটা হল এই বিমা থেকে আপনি ঠিক কি চান? আর আপনার ঠিক কত দিনের সুরক্ষা প্রয়োজন। টার্ম পলিসি আপনার সম্পূর্ণ আয়ের বিকল্প হয়ে উঠবে, এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। আসলে এই বিমা করানোর মূল উদ্দেশ্য পলিসি হোল্ডারের অবর্তমানে পরিবারের অর্থনৈতিক ধাক্কাকে সামাল দেওয়া। যাতে পরিবার হাতে অনেকটা সময় পায়।
অনেক বিশেষজ্ঞই বার্ষিক উপার্জনের ১০ বা ১৫ গুণ কভার নেওয়ার পরামর্শ দেন। বিষয়টা খুব সহজ মনে হলেও এতে বাস্তব জীবনের কোনও স্পষ্ট ছবিই ধরা পড়ে না। আসলে একই উপার্জন করেন এমন দুজন মানুষের দায়িত্ব সম্পূর্ণ আলাদা হয়। আবার শুধু ঋণ শোধের অঙ্ক ধরলেও এই ছবিটা অসম্পূর্ণ থাকে। ফলে, এই টাকার সঙ্গে কোনও ব্যক্তির না থাকাকে তুলনা করা যায় না।
যে সব পরিবারে একজনই উপার্জন করেন, সেই ধরনের পরিবারের দিক থেকে ভাবা হলে টার্ম পলিসির বিষয়টা অনেক বেশি কার্যকর। উপার্জন যদি বন্ধও হয়ে আয় তাহলেও একধিক এমন খরচ রয়েছে যা কোনও দিনও বন্ধ হবে না। যেমন খাবারের খরচ, বিদ্যুতের খরচ, যাতায়াতের খরচ, শিক্ষা, চিকিৎসার খরচ বা কোনও ঋণের ইএমআই। এরপর ভাবনার বিষয় হল কতদিনের টার্ম পলিসি করা উচিত।
যেখানে বিমার কভারেজ কম, সেখানে ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। বয়স বাড়লে বা স্বাস্থ্য খারাপ হলে পরবর্তীতে বিমার কভার বাড়ানো বেশ কঠিন হয়। আবার প্রয়োজনের বাইরের কভারেজ নেওয়া হলে দিতে হয় বাড়তি প্রিমিয়ামও। ফলে, এখানে প্রত্যেক পলিসি হোল্ডারের লক্ষ্য সঠিক অঙ্ক নয়, বরং হওয়া উচিত ভারসাম্য। এমন এক কভারেজ নেওয়া দরকার যা কোনও বাড়তি চাপ ছাড়াই জমা করা যায় ও জীবনের বদলগুলোর সঙ্গে যা পর্যালোচনা করা যায়। কোনও টার্ম পলিসি আসলে ভয়ের নয়, পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর একটা দায়িত্বের প্রতিফলন। যা সঠিক সময় পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যাকে সামাল দেয়।