
এবারের বাজেটে ঘটতে চলেছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এই প্রথম কোনও রবিবার পেশ হতে চলেছে ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট। ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পড়েছে রবিবার। আর সেই দিনেই বাজেট থাকায় অনেকেই ভেবেছিলেন হয়ত রবিবারের বদলে বাজেট পেশ হবে সোমবার, অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু, তা হচ্ছে না, জানিয়ে দিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও, প্রশাসনিক ও আর্থিক দৃষ্টিতে এই রবিবারই হয়ে উঠছে ভারতের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের দিন।
২০১৭ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বাজেট পেশের দিন এগিয়ে নিয়ে আসে। সেই বছর থেকেই ১ ফেব্রিয়ারি পেশ হতে শুরু করে ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট। নতুন আর্থিক বছর শুরুর আগেই যাতে বাজেটে প্রস্তাবিত সব আইন সংসদে পাশ করানো যায়, সেই কারণেই ১ এপ্রিলের অন্তত ২ মাস আগে পেশ করা হয় বাজেট। এতে কোনও নীতি কার্যকর করতে দেরি হয় না। প্রকল্প বাস্তবায়নও হয় সময় মতো।
২০২৬ সালে ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার পড়লেও সরকার কিন্তু বাজেট পেশ করার তারিখে কোনও বদল নিয়ে আসেনি। ছুটির দিনে বাজেট পেশ হওয়ায় একটা সুবিধা অবশ্য পাওয়া যাবে। এ দিন সরকারি অফিস সহ একাধিক ক্ষেত্রের নিয়মিত কাজে কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না।
রবিবার বাজেট পেশ করার কোনও আইনত বাধাও নেই। অর্থাৎ, ভারতের সংবিধান বা সংসদীয় নিয়মে রবিবার বাজেট পেশে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রয়োজনে বিশেষ অধিবেশন ডেকে সব আর্থিক কাজ সম্পন্ন করা যায়।
২০১৭ সালের আগে ফেব্রুয়ারির শেষে বাজেট হওয়ায় ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’-এর প্রয়োজন পড়ত। এখন ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে বাজেট পেশ হওয়ায় ৩১ মার্চের আগেই অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল পাশ করানো যায়। ফলে, নতুন আর্থিক বছর শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুযায়ী।
চলতি বছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে ২৮ জানুয়ারি। ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় দেখা যাবে বাজেটের সরাসরি সম্প্রচার। সব মিলিয়ে, রবিবারে বাজেট পেশ কোনও ব্যতিক্রম নয়—এটা ভারতের আর্থিক পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করার কৌশলগত সিদ্ধান্ত।