WITT Summit 2026 : স্টার্টআপে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কী? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

WITT Summit 2026 : স্টার্টআপ জগতে ‘ভ্যালু বনাম ভ্যালুয়েশন’ নিয়ে একটি আলোচনা হয় সামিটে। আলোচনায় অংশ নিয়েছেন উপাসনা শর্মা, অর্পণা শাহী, অঙ্কিত কুমার ও আশিস কুমার। 'ভ্যালু বনাম ভ্যালুয়েশন'। অর্থাৎ মূল্য বনাম মূল্যায়ণ। স্টার্ট আপের ক্ষেত্রে এই দু'টি বিষয়ে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্টার্টআপগুলির সামনে এখন নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে এবং সেইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাতেও আসছে বড় পরিবর্তন।

WITT Summit 2026 : স্টার্টআপে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কী? জানালেন বিশেষজ্ঞরা
WITT সামিটে স্টার্ট আপ আলোচনাImage Credit source: Tv9 Bangla

Mar 24, 2026 | 1:06 PM

নয়াদিল্লি : চতুর্থবার ‘হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডে’ সামিটের আয়োজন করেছে TV9 নেটওয়ার্ক। দুই দিন ব্যাপী এই সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন রাজনৈতিক জগত থেকে ক্রীড়াজগতের বিশিষ্টরা। স্টার্টআপ জগতের বিশেষজ্ঞরাও অংশ নিয়েছেন। ‘হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডে’-র মঞ্চ থেকে এবার স্টার্ট আপ জগত নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তাঁরা। কোনও একটি ব্যবসা শুরু করতে গেলে কী কী সমস্যা হতে পারে, কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়ে পরামর্শ দিলেন তাঁরা।

ভ্যালু বনাম ভ্যালুয়েশন: বিল্ডিং দ্য বিজনেস কেস

স্টার্টআপ জগতে ‘ভ্যালু বনাম ভ্যালুয়েশন’ নিয়ে একটি আলোচনা হয় সামিটে। আলোচনায় অংশ নিয়েছেন উপাসনা শর্মা, অর্পণা শাহী, অঙ্কিত কুমার ও আশিস কুমার। ‘ভ্যালু বনাম ভ্যালুয়েশন’ অর্থাৎ বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় মূল্য বনাম মূল্যায়ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন স্টার্ট আপের ক্ষেত্রে এই দু’টি বিষয়ে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্টার্টআপগুলির সামনে এখন নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে এবং সেইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাতেও আসছে বড় পরিবর্তন।

অনিশ্চয়তাই নতুন বাস্তবতা

উপাসনা শর্মা বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি হোক বা না হোক, অনিশ্চয়তা এখন বৈশ্বিক পরিস্থিতির অন্যতম নির্ধারক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। নতুন ব্যবসা গড়ে তুলতে গেলে এই অনিশ্চয়তাই বড় প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও জানান, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও এই ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

কতটা টেকসই?

অঙ্কিত কুমারের মতে, বিশ্বব্যাপী লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম স্টার্টআপগুলিকে স্থানীয়ভাবে পণ্য ও পরিষেবা উন্নয়নে সাহায্য করতে পারে। যা দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, তাঁর সংস্থা ড্রোনের মাধ্যমে বাড়ির দরজায় পণ্য পৌঁছে দেয়, ফলে খরচ কমে এবং কার্বন নির্গমনও হ্রাস পায়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ডিপ টেক এবং স্পেস টেকের মতো ক্ষেত্রে বহু নতুন স্টার্টআপ গড়ে উঠছে। তবে ভারতে সফল পণ্য তৈরি করতে গেলে মাত্র তিন বছর যথেষ্ট নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা প্রায় ১০ বছর সময় নিতে পারে।

ইনভেস্টমেন্ট টেস্ট—স্টার্টআপে বিনিয়োগের মানদণ্ড কী?

স্টার্ট আপে বিনিয়োগ কেন করবেন বিনিয়োগকারীরা? প্রযুক্তি থাকলেও যদি তার ব্যবহার বা গ্রহণযোগ্যতা প্রত্যাশামতো না বাড়ে, তাহলে কি বিনিয়োগকারীরা সেই সংস্থায় টাকা ঢালবেন? এই প্রশ্নই উঠে এল আলোচনায়। আশিস কুমার বলেন, “কোনও সংস্থায় বিনিয়োগ করে লাভ করতে হলে প্রকৃত ‘ভ্যালু’ তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে লাভের একমাত্র পথ হল ভ্যালু এবং ভ্যালুয়েশনকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীরা শুধু ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দিকে তাকিয়ে থাকেন না, বরং প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রত্যাশা করেন । তবে তা প্রতি বছর হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

তিনি আরও বলেন, “একটি স্টার্টআপের প্রথম কয়েক বছর মূলত সক্ষমতা তৈরি করার সময়। তাই একটি সংস্থা সেই সক্ষমতা তৈরি করছে কি না, সেটিই খতিয়ে দেখা জরুরি।” পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, গত কয়েক বছরে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় বিশেষ কোনও পরিবর্তন আসেনি।

Follow Us