MBA Finance Jobs: MBA ফিনান্স নিয়ে পাশ করে কি ধরনের চাকরি পেতে পারেন, জেনে নিন
Career opportunities after MBA in Finance: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার আগে খতিয়ে দেখতে হয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কোম্পানি কেমন প্রফিট করছে, ভবিষ্যতে শেয়ারের দাম কত হতে পারে ইত্যাদি। যাঁরা এই বিষয়গুলো নিয়ে রিসার্চ করেন, তাঁদের বলা হয় রিসার্চ অ্যানালিস্ট। এরকম অনেকে পদে চাকরি পাওয়া যায় এমবিএ ফিনান্স নিয়ে পড়াশোনা করে। জেনে নিন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন...

সমিতা সাহা কর্মকার (SEBI শংসায়িত বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ)
MBA ফিনান্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এখন পাশ করে ভাবছেন, আপনার সামনে কোন কোন চাকরির দরজা খোলা রয়েছে? MBA ফিনান্স নিয়ে পাশ করে কি ধরনের চাকরি পেতে পারেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ধরনের আর্থিক সংস্থানের ফিন্যান্সে দক্ষ কর্মচারীর প্রয়োজন। বিশেষ করে আর্থিক সংস্থাগুলি যেমন ব্যাঙ্ক, মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানি, NBFC , সম্পদ ব্যবস্থাপনা, শহরে বাজার ভিত্তিক এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কোম্পানির ফিনান্স ডিপার্টমেন্ট।
কিছু উল্লেখযোগ্য পদগুলির বিষয়ে জেনে নিন-
১. রিলেশনশিপ ম্যানেজার- ব্যাঙ্ক কিংবা বিভিন্ন আর্থিক সংস্থান দ্বারা প্রদত্ত পণ্যের বিষয় গ্রাহককে অবগত করা, তথ্য প্রদান করা এবং পরিষেবা গ্রহণে সাহায্য করার দায়িত্বে থাকেন রিলেশনশিপ ম্যানেজার।
২. ব্রাঞ্চ ম্যানেজার- ব্যাঙ্কের অনেক শাখা প্রশাখা দেশজুড়ে পরিষেবা পৌঁছে দেয় জনসাধারণের কাছে। প্রতিটি শাখার প্রতিনিধি ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে জানতে হয় ব্যাঙ্কের শাখা পরিচালনার সমস্ত কাজ।
৩. ক্রেডিট অফিসার- ব্যাঙ্ক বা ফিনান্স কোম্পনিগুলি ঋণ দেওয়ার সময় দেখে ঋণগ্রহণকারী ঋণ শোধ করতে পারবেন কি না এবং আনুসাঙ্গিক বিভিন্ন ব্যাপার যার ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া হয়। যাঁরা এই কাজটি করেন, তাঁদের বলা হয় ক্রেডিট অফিসার।
৪. ট্রেজারি অফিসার- যাঁরা আর্থিক সংস্থার সমস্ত অর্থ পরিচালনা করেন, তহবিল সংগ্রহ আর বিনিয়োগ করেন, তাঁদের ট্রেজারি অফিসার বলা হয়।
৫. রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অফিসার- রিস্ক কিংবা ঝুঁকি ব্যবসায় থাকবেই। আর সেই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজন রিস্ক অফিসারের।
৬. ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার- বিভিন্ন কোম্পানি একত্রীকরণ ও অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া, তহবিল সংগ্রহ, মূল্যায়ন নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার বলা হয়।
৭. রিসার্চ এনালিস্ট- শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার আগে খতিয়ে দেখতে হয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কোম্পানি কেমন প্রফিট করছে, ভবিষ্যতে শেয়ারের দাম কত হতে পারে ইত্যাদি। যাঁরা এই বিষয়গুলো নিয়ে রিসার্চ করেন, তাঁদের বলা হয় রিসার্চ অ্যানালিস্ট।
৮. মিউচুয়াল ফান্ড ডিস্ট্রিবিউটর- ডিস্ট্রিবিউটররা মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানির হয়ে বিনিয়োগকারীদের রেগুলার প্ল্যানে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন এবং তার পরিবর্তে কমিশন পান।
৯. সম্পদ উপদেষ্টা- বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়া যেমন শেয়ার বাজার, বন্ড , মিউচুয়াল ফান্ড, SIF , AIF ইত্যাদি।
১০. অ্যাকাউন্টস অফিসার- টাকার আদান প্রদান থাকলেই অ্যাকাউন্টিং করতে হয় এবং অ্যাকাউন্টস অফিসারদের শুধু আর্থিক সংস্থায় নয়, হরেকরকমের কোম্পানিতে প্রয়োজন থাকে।
১১. কনসালটেন্সি কোম্পানি বিশেষজ্ঞ- বিভিন্ন কোম্পানির দেশে বিদেশে অফিস থাকলে সেই সব দেশের কর এবং নানা নিয়ম কানুন মানিয়ে চলার ক্ষেত্রে, কোনও কোম্পানির কৌশলগত পরিকল্পনার (স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং) ক্ষেত্রে এবং আরও নানা ক্ষেত্রে কনসালটেন্সি কোম্পানিরা পরামর্শ প্রদান করে।
১২. AML অফিসার- যে কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেনের অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থকে বৈধ করার প্রক্রিয়া (অর্থ পাচার) রোধ, শনাক্ত এবং রিপোর্ট করার জন্য নিযুক্ত করা হয় আন্টি মানি লন্ডারিং অফিসার। এ ছাড়াও বহু ধরনের চাকরি আছে। কারণ যেখানেই আর্থিক লেনদেন, সেখানেই চাহিদা থাকবে MBA ফিন্যান্সের। উল্লেখ করা পদগুলি শুধু একটা ধারণা দেওয়ার জন্য।
