SIR in Bengal: ২০০২ সালের তালিকায় নাম আছে বাবা-মার, শুনানির নোটিস পেয়ে আতঙ্কে ছিলেন, ব্যক্তির মৃত্যুতে শোরগোল হাসনাবাদে
North 24 Parganas: মৃতের স্ত্রী সেরিনা মোল্লা বলেন, "সবসময় টেনশন করত। কী হবে, কী হবে বলতেন। আজ ভোরেও এই নিয়ে বলছিলেন। তারপর ঘুমিয়ে পড়েন। আমি সকালে উঠে দেখি নিশ্বাস পড়ছে না। আমি চিৎকার করে সবাইকে ডাকি।" মৃতের মা জরিনা মোল্লা বলেন, "ও খুব ভয় করত। বলত, আমাকে কী ধরে নিয়ে যাবে। আমি সবসময় বলতাম, টেনশন করিস না। টেনশনের জন্যই মারা গিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।"

হাসনাবাদ: এসআইআর-র হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। শুনানিকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। শুনানির পরও আতঙ্ক কাটেনি। আর সেই আতঙ্কেই এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। মৃতের নাম ফিরোজ মোল্লা (৩৮)। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের। মৃতের পরিজনদের অভিযোগ, ফিরোজের বাবা-মার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। শুনানির পরও বারবার নাম কাটা যাওয়ার কথা বলতেন। সেই আতঙ্কেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা বেড়েছে।
ফিরোজের বাড়ি হাসনাবাদের ভেবিয়া এলাকায়। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টের হার্ড কপিতে তাঁর বাবা মায়ের নাম রয়েছে। কিন্তু অনলাইনে তা নেই। আর এখানেই তৈরি হয় সমস্যা। সকলের মতো ফিরোজ মোল্লাও SIR-র ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিয়েছিলেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তার বাবা-মায়ের নাম-সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। সেই নোটিস অনুযায়ী গত ৩ জানুয়ারি তিনি হিয়ারিংয়ে যান। ২০০২ সালের লিস্টে তাঁর বাবা-মায়ের (বাবা মোবাক মোল্লা ও মা জরিনা মোল্লা) নাম থাকলেও অনলাইনে ২০০২ সালের লিস্টে র সঙ্গে নামের মিল হচ্ছিল না তাঁর বাবা, মায়ের। আর সেই কারণে তাঁর নাম বাদ পড়েছিল।
হিয়ারিংয়ে ডাক পড়ায় চিন্তিত ছিলেন ফিরোজ। মৃতের স্ত্রী সেরিনা মোল্লা বলেন, “সবসময় টেনশন করত। কী হবে, কী হবে বলতেন। আজ ভোরেও এই নিয়ে বলছিলেন। তারপর ঘুমিয়ে পড়েন। আমি সকালে উঠে দেখি নিশ্বাস পড়ছে না। আমি চিৎকার করে সবাইকে ডাকি।” মৃতের মা জরিনা মোল্লা বলেন, “ও খুব ভয় করত। বলত, আমাকে কী ধরে নিয়ে যাবে। আমি সবসময় বলতাম, টেনশন করিস না। টেনশনের জন্যই মারা গিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।” ওই বুথের বিএলও ওমর ফারুকও স্বীকার করেন, ফিরোজ খুব টেনশনে ছিলেন। তিনি বলেন, “হার্ড কপিতে বাবার নাম ছিল। কিন্তু, কম্পিউটার জেনারেটেড কপিতে নাম পাওয়া যায়নি। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, নাম পাওয়া যায়নি। তাই, আনম্যাপড থেকে গিয়েছে। সেজন্যই হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়। উনি খুব টেনশন করতাম। আমি বলেছিলাম, টেনশন করবেন না।” টেনশনেই ফিরোজের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন বিএলও-ও।
ফিরোজের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে যান তৃণমূল পরিচালিত ভেবিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান অলিউল মণ্ডল। ফিরোজের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেন। বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় জন্য দিকে দিকে মানুষ মারা যাচ্ছেন। বিজেপি ও কমিশনকে ধিক্কার জানাই। শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। এই পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি।”
