e

আরামবাগ: বন্যায় প্লাবিত হয় ঘাটাল। সেখানকার মানুষের দুর্দশা ঘোচাতেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের দাবি বহু দশকের। ২ দিন আগে হুগলির সিঙ্গুর থেকে সেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির আরামবাগ মহকুমাও বন্যায় প্লাবিত হয়। কিন্তু, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে আরামবাগ মহকুমাকে রাখা হয়নি। এই নিয়ে ক্ষুব্ধ বিরোধী রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি আরামবাগের মানুষজন। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ইঞ্জিনিয়ার বলছেন, আরামবাগকে বাদ দিয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর হলে বিপর্যয় নেমে আসবে আরামবাগে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে আরামবাগ মহকুমাকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ‘খানাকুল বাঁচাও সোসাইটি’-র ব্যানারে আন্দোলন চলছে।
রাজ্য সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে কয়েকশো কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। কিন্তু মাস্টার প্ল্যানে নেই বন্যা কবলিত আরামবাগ মহকুমার নাম। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে বন্যাকবলিত আরামবাগ মহকুমার অন্তর্ভুক্তির দাবিতে কয়েকবছর ধরেই আন্দোলন চলছে। খানাকুলে গণস্বাক্ষর অভিযান চালাচ্ছে ‘খানাকুল বাঁচাও সোসাইটি’-র সদস্যরা।
গোঘাট ও আরামবাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত দ্বারকেশ্বর ও ঘাটালের দিক থেকে প্রবাহিত শিলাবতী খানাকুলের বন্দর-ধান্যঘোরি এলাকায় একসঙ্গে মিশে রূপনারায়ণ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে খানাকুলের বন্দর থেকে ১৪ কিমি দূরে পানশিউলিতে দামোদরের শাখা নদী মুন্ডেশ্বরী রূপনারায়ণে মিশেছে। খানাকুলের প্রচুর খাল বিলও রূপনারায়ণে মিশেছে। ফলে রূপনারায়ণের জল বাড়লে এই সমস্ত খালগুলি দিয়ে খানাকুলের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে যায় জোয়ারের জলও। রূপনারায়ণের জল বাড়লে প্লাবিত হয় গোটা খানাকুল। ঘাটালের দিক থেকে জলের চাপ বাড়লে খানাকুল, আরামবাগের একটি বিস্তীর্ণ অংশ ও গোঘাটের জল নিকাশির সমস্যা হয়। জলের চাপ রূপনারায়ণে থাকায় গোঘাট ও আরামবাগের বন্যার জল নামতে পারে না।
অন্যদিকে ঘাটালে জলের চাপ থাকায় পরোক্ষভাবে প্লাবিত হয় আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ অংশ। আটের দশকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের রূপরেখা ঠিক হয় যাতে অন্তর্ভুক্তি ছিল আরামবাগ মহুকুমার। গোঘাটের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক বারে বারে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে আরামবাগ মহকুমার সংযুক্তি নিয়ে বিধানসভায় আলোচনার দাবি করেছিলেন। কিন্তু সেই দাবিকে কেউই কোনও মান্যতা দেননি বলে অভিযোগ। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে আরামবাগ মহুকুমার অন্তর্ভুক্তি না থাকায় ক্ষুব্ধ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব সহ সাধারণ মানুষজন।
কয়েক দশক ধরে পুড়শুড়া, আরামবাগ, গোঘাট ও খানাকুলের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার তরুণ নন্দীর দাবি, “আরামবাগ মহকুমাকে বাদ দিয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সম্ভব নয়। যদি আরামবাগ মহুকুমাকে বাদ দিয়ে মাস্টার প্ল্যান হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বিপর্যয় নেমে আসবে আরামবাগ মহুকুমাজুড়ে।” আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগ বলেন, “ঘাটালে যেমন মাস্টার প্ল্যান হয়েছে, আরামবাগেও মাস্টার প্ল্যান হবে।” গোঘাট ও খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার দিকে আঙুল তুলেছেন। সিপিএমেরও বক্তব্য, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জেরে আরও প্লাবিত হবে আরামবাগ।
আরামবাগবাসীর প্রশ্ন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হলে ঘাটাল-সহ দুই মেদিনীপুরবাসীর উন্নতির কথা যদি ভাবা হয়, তাহলে আরামবাগ-খানাকুলবাসীর কথা কেন ভাববে না প্রশাসন? কেন তাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে ভয়ঙ্কর বন্যার পরিস্থিতিতে? ভোটের আগে আরামবাগবাসীর এই অসন্তোষকে কি কাজে লাগাতে চাইবে বিরোধীরা? কীভাবে বিষয়টি সামাল দেবে শাসকদল? এই নিয়েই এখন বাড়ছে জল্পনা।