
ভাটপাড়া: তাঁদের রাজনৈতিক শত্রুতা সর্বজনবিদিত। বর্তমানে তাঁরা বাংলার যুযুধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই শিবিরের সৈনিক। কিন্তু, এক দলে থাকাকালীনও তাঁদের রাজনৈতিক বৈরিতা নিয়ে আলোচনা হত। কিন্তু, এসআইআর কার্যত একসারিতে নিয়ে এল ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ও জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যামকে। দুই শিবিরের দুই নেতার অর্ধাঙ্গিনীকেই এসআইআর-এ হিয়ারিংয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হল।
দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করলেও অর্জুন ও সোমনাথের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রায়ই সামনে আসত। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগদান করে ব্যারাকপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন অর্জুন। অন্যদিকে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জগদ্দল থেকে জয়ী হন সোমনাথ। দুই নেতা তখন দুই শিবিরে। পরস্পরকে নিশানা করে তোপ দাগতে দেখা যেত তাঁদের। এরপর ২০২২ সালে তৃণমূলে ফেরেন অর্জুন। ফের এক দলে হলেও দুই নেতার দ্বন্দ্ব কমেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে অর্জুন যাতে তৃণমূলের টিকিট না পান, তা নিয়ে সক্রিয় ছিলেন সোমনাথ। বাস্তবে লোকসভা নির্বাচনে টিকিটও পাননি ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ। তারপর ফের বিজেপিতে ফেরেন অর্জুন। দুই শিবিরের দুই নেতার বিরোধ এখনও প্রায়ই সামনে আসে।
‘চিরশত্রু’ এই দুই নেতাকে কার্যত একসূত্রে বাঁধল এসআইআর। তাঁদের স্ত্রীরা পেলেন এসআইআর-এ শুনানির নোটিস। তবে এই নিয়ে দুই শিবিরের মন্তব্য অবশ্য আলাদা। অর্জুন সিংয়ের পুত্র তথা ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিং নিশানা করলেন বিএলও-কে। পবন বলেন, “আমার, বাবার এবং আমার দুই বোনের নাম ক্লিয়ার রয়েছে। তাহলে শুধু মাকে কেন হিয়ারিংয়ে ডেকেছে জানি না। তবে যা প্রক্রিয়া রয়েছে, তা সবাইকে মেনে চলতে হবে। আমি নির্বাচন কমিশনকে কিছু বলব না। বিএলও-দের নিশ্চয় কিছু বদমায়েসি রয়েছে। কমিশনকে অনুরোধ করব, গ্রাউন্ড লেভেলে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখুক তারা।”
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীকে হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানো নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করলেন জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। তিনি বলেন, “অন্যজনের জন্য গর্ত খুঁড়লে নিজেকেও গর্তে পড়তে হয়। বিজেপি লাফালাফি করছে, এসআইআর-এ অনেক লোকের নাম বাদ পড়বে। সেই ফাঁদে তারাও পড়বে। এখন তো আর হাতে না লেখা আর কাটা হচ্ছে না। সফটওয়্যারে হচ্ছে। আর এটা তো একটা ষড়যন্ত্র। এটা পূর্বপরিকল্পিত। দেড় কোটি নাম কাটতে হবে বলে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তাঁর স্ত্রী হিয়ারিংয়ে যাবেন জানিয়ে সোমনাথ বলেন, “আমার স্ত্রীকে হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠিয়েছে। অবশ্যই যাবে। আমার স্ত্রীর কোনও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ছিল না।” অর্জুন সিংয়ের স্ত্রীকে হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানো নিয়ে সোমনাথ বলেন, “নিশ্চয় কোনও ডিসক্রিপেন্সি ছিল, তাই ডেকে পাঠিয়েছে।” একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, “বিজেপির লোকেরা বেছে বেছে ফর্ম ৭ জমা দিচ্ছে। তৃণমূল কর্মী পরিবারের নাম জমা দিচ্ছে।”