
কলকাতা: এখনও তো উত্তর মিলছে না, সিপিএম-এর দরজা কি তবে বন্ধ? আইএসএফ-এর কি জোটের রাস্তা কি খোলা রয়েছে হুমায়ুন কবীরের কাছে? জানা যাচ্ছে, আইএসএফের রাজ্য কমিটির বৈঠকে হুমায়ুনকে নিয়ে পজেটিভ আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের রাজ্য কমিটির বৈঠকে হুমায়ুন নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করবে আইএসএফ পুরনো বক্তব্য প্রত্যাহার করায় হুমায়ুনের প্রশংসাও হয়েছে নওশাদদের দলে। সূত্রের খবর, আপাতত আইএসএফের বৈঠকে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (হুমায়ুনের দল) নিয়ে যে ‘ছুৎমার্গ’ নেই, তা স্পষ্ট করা হয়েছে। গত বছরের শেষের দিকেই সিপিএমের সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক সেরেছিলেন নওশাদ। বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হয়েছিলেন। কিন্তু সে সময়ে তাঁর কথাবার্তায় সিপিএম-এর সঙ্গে জোট নিয়ে আগ্রহী মনোভাব দেখা গেলেও, হুমায়ুনের সঙ্গে যে কোনও কথাই হয়নি, তা স্পষ্ট করেছিলেন নওশাদ। তার আরও একটা কারণ, সংখ্যালঘুদের নিয়ে হুমায়ুনের বেশ কয়েকটি ‘সাম্প্রদায়িক’ মন্তব্য, যা নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে, তাতে তাঁর প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন হয়েছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক।
হুমায়ুন অবশ্য আইএসএফের সঙ্গে জোটে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। গত মাসেই ফুরফুরা শরিফ গিয়েছিলেন হুমায়ুন। একে একে বেশ কয়েক জন পীরজাদার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু যাঁদের দলের সঙ্গে জোট করবেন বলে বার্তা দিয়েছিলেন, সেই ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দেখা পাননি। তার পরেও জোট নিয়ে আশাবাদী হুমায়ুন। কিন্তু কয়েকদিন আগে পর্যন্তও হুমায়ুনের জোটে আহ্বান প্রসঙ্গে নওশাদের বক্তব্য ছিল, “আগে ‘সেকুলার’ (ধর্মনিরপেক্ষ) হতে হবে ওই দলকে।”
কিন্তু গত মাস দুয়েকে সমীকরণটা বেশ খানিকটাই বদলেছে। কারণ সিপিএমের সঙ্গে আইএসএফের জোট এখনও অনিশ্চিত। কারণ আইএসএফের বক্তব্য, বামফ্রন্ট জোটের উত্তর দিতে দেরি করছে। বারবার মেইল করা হয়েছে, করা হয়েছে একাধিক ফোনও, কিন্তু তা সত্ত্বেও আলিমুদ্দিন থেকে কোনও সদুত্তর আসেনি।
এদিকে, তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সিপিএম, মিম, আইএসএফের সঙ্গে জোটের রাস্তায় হাঁটতে বারবার ইচ্ছপ্রকাশ করছেন কবীর। জানা যাচ্ছে, অতি সম্প্রতি কবীরকে নিয়েও কিছুটা সদর্থক আলোচনা হয়েছে আইএসএফ অন্দরে। তবে তা জোট নিয়ে নয়, বরং কবীরের ‘মানসিকতার অবস্থানের’ বদল নিয়ে। তাহলে কি জোটের রাস্তা খোলা? এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হয়েছিল নওশাদকে। TV9 বাংলাকে ফোনে তিনি জোট সম্পর্কে বলতে গিয়ে সিপিএমের কথাই উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের মতো সর্বতভাবে চেষ্টা করছি। দ্রুততার সঙ্গে জোটটা হয় (সিপিএম), আমরা যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে চাইছে, ভোটের আগে সেটা যেন সাধারণ মানুষের কাছে একটা ভরসা জায়গায় পরিণত হয়। বিমানবাবুর সঙ্গে কথা হচ্ছে। ওদিক থেকে দ্রুততার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া পেতে একটু সমস্যা হচ্ছে।” কবীর প্রসঙ্গে নওশাদের বক্তব্য, “উনি বিগত দিনে যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, সেই জায়গা থেকে তিনি ফিরে এসেছেন। আশা রাখব কোনও সাম্প্রদায়িক শক্তিতে মদত জোগাবেন না।”