AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bankura: গিয়েছিলেন উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে, তৃণমূল বিধায়ককে প্রতিশ্রুতির কথা মনে করাল গ্রামবাসী

TMC MLA: বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাদারিয়া গ্রামের অবস্থান শিলাবতী নদীর পাড়ে। গ্রামে ভাঙনের সমস্যা বহু দিনের। শিলাবতী নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে একটু একটু করে নদী গর্ভ এগিয়ে আসছে গ্রামের দিকে। বহু কৃষিজমি ইতিমধ্যেই গ্রাস করেছে শিলাবতী নদী। তবে ভাঙনের থেকেও গ্রামবাসীদের কাছে অন্যতম বড় সমস্যা শিলাবতী নদী পেরিয়ে যোগাযোগের অভাব।

Bankura: গিয়েছিলেন উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে, তৃণমূল বিধায়ককে প্রতিশ্রুতির কথা মনে করাল গ্রামবাসী
তৃণমূল বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jan 21, 2026 | 9:23 AM
Share

বাঁকুড়া: নির্বাচনের আগে পাকা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অভিযোগ, নির্বাচনের পরে দেখা মেলেনি। এবার উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে গ্রামে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন খোদ বিধায়ক। শাসকদলের বিধায়ককে হাতের সামনে পেয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ উগরে দিলেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেন বাঁকুড়ার তালডাংরার বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহবাবু। পাঁচ বছর সময় দেওয়ার কথাও বললেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর বেড়েছে। 

উপনির্বাচনের আগে বাঁকুড়ার তালডাংরার বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহবাবু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ভোটে জিতলেই সিমলাপাল ব্লকের মাদারিয়া গ্রামের পাশে শিলাবতী নদীর উপর তৈরি হবে পাকা সেতু। নদীর ভাঙন রোধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ, নির্বাচনী বৈতরণী পেরোনোর পর আর গ্রামমুখো হননি তৃণমূলের ওই বিধায়ক। বছর খানেকের মাথায় সম্প্রতি দলীয় নির্দেশে উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে গিয়ে এবার গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়লেন তিনি। বিধায়ককে ঘিরে ধরে গ্রামবাসীরা ফেটে পড়লেন প্রবল ক্ষোভে। সামাজিক মাধ্যমে বিধায়ককে ঘিরে গ্রামবাসীদের সেই বিক্ষোভের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটিকে বিক্ষোভ না বলে আবদার বলে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছেন ক্ষোভের মুখে পড়া তালডাংরার বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহবাবু।

বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাদারিয়া গ্রামের অবস্থান শিলাবতী নদীর পাড়ে। গ্রামে ভাঙনের সমস্যা বহু দিনের। শিলাবতী নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে একটু একটু করে নদী গর্ভ এগিয়ে আসছে গ্রামের দিকে। বহু কৃষিজমি ইতিমধ্যেই গ্রাস করেছে শিলাবতী নদী। তবে ভাঙনের থেকেও গ্রামবাসীদের কাছে অন্যতম বড় সমস্যা শিলাবতী নদী পেরিয়ে যোগাযোগের অভাব। শুধু মাদারিয়া গ্রাম নয়, আশপাশের রঘুনাথপুর, ঝমকা ও পুঁইপাল গ্রামের মানুষকে নিত্যদিনের প্রয়োজনে শিলাবতী নদী পেরিয়ে যেতে হয় নদীর অন্যপাড়ে থাকা লক্ষ্মণপুর, উন্তিশোল, হরিহরপুর ও চাকড়াশোল গ্রামে। বাস ধরে অন্যত্র যাওয়া হোক, লেখাপড়ার জন্য হাইস্কুল কিংবা কলেজে যাওয়া প্রতিদিন ওই গ্রামগুলির সাধারণ মানুষ ও ছাত্র ছাত্রীদের শিলাবতী নদী পেরিয়ে যেতে হয় লক্ষ্মণপুর গ্রামে।

শুখা মরসুমে শিলাবতী নদী পারাপারের জন্য গ্রামের মানুষ নিজেদের উদ্যোগে সংকীর্ণ বাঁশের সাঁকো তৈরি করে তার উপর দিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করেন। কিন্তু বর্ষা এলেই মাদারিয়া ও ঝমকা গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। শিলাবতী নদীর জলের স্রোতে বাঁশের সাঁকো ভেসে যায়। তখন একদিকে ফুঁসতে থাকা শিলাবতী নদী আর অন্যদিকে স্থানীয় খালের জলে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় কার্যত জলবন্দী হয়ে পড়ে মাদারিয়া ও ঝমকা গ্রামের মানুষ। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল কলেজ যাতায়াত থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য। সে সময় কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সুযোগটুকুও থাকে না। স্বাভাবিকভাবে গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, শিলাবতী নদীর উপর একটি পাকা সেতুর।

২০২৪ সালে বাঁকুড়ার তালডাংরার তৃণমূল বিধায়ক অরুপ চক্রবর্তী সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হলে ২০২৫ সালে তালডাংরা আসনে উপনির্বাচন হয়। সেই উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবু মাদারিয়া গ্রামে প্রচারে গেলে গ্রামবাসীরা শিলাবতী নদীর ভাঙন রোধের পাশাপাশি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানান। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, সে সময় ফাল্গুনী সিংহবাবু ভোটে জিতেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন। কিন্তু অভিযোগ, ভোট মিটতেই আর মাদারিয়া গ্রামমুখো হননি ফাল্গুনী সিংহবাবু। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ জমছিল গ্রামবাসীদের মধ্যে। গত শনিবার বিধায়ক তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালি কর্মসূচিতে মাদারিয়া গ্রামে পা রাখতেই তাঁকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের দাবি, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করাতেই এই বিক্ষোভ।

বিজেপি গ্রামবাসীদের এই ক্ষোভকে তৃণমূলের প্রতি মানুষের জনরোষ বলে দাবি করেছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, বিধায়ককে ঘিরে শনিবার যা ঘটেছে তা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ না বলে বিধায়কের কাছে গ্রামবাসীদের আবদার বলা যেতে পারে। বিক্ষোভের মুখে পড়ে বিধায়ক অবশ্য সাফাই দিয়েছেন তিনি মাত্র এক বছর বিধায়ক হয়েছেন। তার মধ্যেই তিনি প্রতিশ্রুতি পালনের যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, একজন বিধায়ক পাঁচ বছর সময় পান। পাঁচ বছর পর কাজ না হলে তখন প্রশ্ন তোলা যায়। বিধায়কের বক্তব্য শুনে কেউ কেউ বলছেন, তাঁকে ঘিরে ক্ষোভের মধ্যেও কি ছাব্বিশের নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে গেলেন ফাল্গুনী সিংহবাবু?