AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

PM Narendra Modi at Singur: বাংলায় ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ স্কিমের কথা উল্লেখ মোদীর, কী এই স্কিম?

PM Narendra Modi at Singur: লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে সুকান্ত মজুমদার : তৃণমূল ভয় দেখাচ্ছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে, লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করে দেবে, এই মঞ্চ থেকে পরিস্কার করে বলছি, তৃণমূল যত টাকা বলবে, তার থেকে ৫০ টাকা বেশি হলেও আমরা লক্ষ্মীর ভান্ডারে দেব। এটা আমাদের গ্যারান্টি।

PM Narendra Modi at Singur: বাংলায় 'ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট' স্কিমের কথা উল্লেখ মোদীর, কী এই স্কিম?
সিঙ্গুরের সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রীImage Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Jan 18, 2026 | 4:33 PM
Share

হুগলি: আজ সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জমি আন্দোলনের আঁতুরঘরে নজর বঙ্গ রাজ্য রাজনীতির। ভোটমুখী বাংলায় ফের আলোচনার কেন্দ্রে সিঙ্গুর। ক্ষমতায় এলে বিজেপি সিঙ্গুরে টাটাদের ফেরাবে, তেমনই আশ্বাস দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। ছাব্বিশের নির্বাচনে আবারও প্রাসঙ্গিক সিঙ্গুর। এদিন প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেটাই দেখার।

KEY HIGHLIGHTS

  1. লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে সুকান্ত মজুমদার : তৃণমূল ভয় দেখাচ্ছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে, লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করে দেবে, এই মঞ্চ থেকে পরিস্কার করে বলছি, তৃণমূল যত টাকা বলবে, তার থেকে ৫০ টাকা বেশি হলেও আমরা লক্ষ্মীর ভান্ডারে দেব। এটা আমাদের গ্যারান্টি।
  2. ভাষণ রাখছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ভাষণের মাঝেই মঞ্চে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উঠে স্লোগান, হয় পুষ্পবৃষ্টি। ঠিক দুপুর ২টো ৪০ মিনিটে সিঙ্গুরে পৌঁছয় প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার। তার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সকালে পৌঁছন মোদী। সেখানে কপ্টারে সিঙ্গুরের উদ্দেশে রওনা দেন। এদিন পরপর দুটি কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
  3. সিঙ্গুরে সরকারি সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। ৮৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস। বলাগড়ে বন্দর গেট সিস্টেমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। ময়নাপুর ও জয়রামবাটির মধ্যে নতুন ট্রেনের সূচনা।
  4. বাংলায় রেলের উন্নয়ন নিয়ে মোদী: বিকশিত ভারত আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে কেন্দ্র সমানে কাজ করে যাচ্ছে। আমার এই দুদিনের কর্মসূচি এই সংকল্পকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই। বাংলায় বিকাশের কোটি কোটি প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছে। কাল বাংলা থেকে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। বাংলা আধা ডজন নতুন ট্রেন, অমৃত ভারত ট্রেন পেয়েছে। কাশী-বারাণস সঙ্গে বাংলার যোগসূত্র আরও মজবুত করবে। দিল্লি, তামিলনাড়ুতে অমৃত ভারত শুরু হয়েছে। বাংলায় রেল ইতিহাসে গত ২৪ ঘণ্টা অভূতপূর্ব ভূমিকা নিয়েছে। এই ২৪ ঘণ্টায় যত কাজ হয়েছে, হয়তো গত ১০০ বছরে ২৪ ঘণ্টায় এত কাজ হয়নি।
  5.  নজর হুগলি: বাংলার বিকাশ ভারতের বিকাশের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ব্যবসা বাণিজ্যের বড় হাব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাময়। তাতে বাংলার রোজগারের পথ খুুলবে। গত বছর কলকাতা পোর্টে কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের নয়া রেকর্ড হয়েছে। বলাগড়ে এক্সটেন্টেড পোর্ট গেট সিস্টেম হুগলি ও আশপাশের এলাকার জন্য নতুন সুযোগ খুলবে। কার্গো মুভমেন্ট বাড়বে। হুগলিতে ট্রেডিং হাব বানাতে সাহায্য করবে। কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। হাজারও যুবদের কর্মসংস্থান হবে। ছোট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের লাভ হবে: মোদী
  6. হাইব্রিড ইলেক্ট্রিক নৌকা নিয়ে মোদী: পোর্ট, নদী জলপথ, হাইওয়ে, বিমানবন্দর একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এতে লজিস্টিক কোস্ট আর যাতায়াতের সময়ে কম হবে। যোগাযোগের মাধ্যম ন্যাচার ফ্রেন্ডলি হোক, এটাই আমাদের লক্ষ্য। হাইব্রিড ইলেক্ট্রিক নৌকার সাহায্যে রিভাল ট্রান্সপোর্ট ও গ্রিন মোবিলিটির শক্তি বাড়বে। হুগলি নদীর দূষণ কম হবে। নদী কেন্দ্রিক ব্যবসাও উন্নত হবে।
  7. ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’, মোদীর স্লোগান: এরপর সিঙ্গুরের সভার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।  ১৫ বছরের জঙ্গলরাজকে প্রত্যেকেই বদলাতে চান। বিজেপি NDA বিহারে জঙ্গলরাজ থামিয়েছে। এবার বাংলাতেও TMC-র মহাজঙ্গলরাজ বিদায় হবে। বিজেপি তৈরি। স্লোগান ওঠে, ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’
  8. নেতাজি সম্পর্কে মোদী: বিজেপি ও বন্দে মাতরমের সম্পর্ক অনেক গভীর। এখানেই ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র বন্দেমাতরমের পূর্ণ স্বরূপ দিয়েছেন। বাংলার মাটি দেশের স্বাধীনতার জন্য দিশা দেখিয়েছে, বিজেপি সেই প্রেরণা রাষ্ট্রের কোণায় কোণায় পৌঁছে দিচ্ছে। এই বিজেপি সরকার দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের প্রতিমা লাগিয়েছে। লালকেল্লায় আজাদ হিন্দ ফৌজ, আন্দামান নিকোবরে নেতাজির নামে গ্রিপের নাম রাখা হয়েছে। ২৬ জানুয়ারির যে কর্মসূচি ছিল, তা ২৪-২৫ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ৩০ তারিখে শেষ হত, আমরা এটা বদলে দিয়েছে। ২৩ জানুয়ারি সুভাষচন্দ্রের জন্মজয়ন্তী থেকে শুরু করে, মহাত্মা গান্ধীর পূর্ণতিথি পর্যন্ত হবে।
  9. বাংলা ভাষা-সংস্কৃতি-সাহিত্য নিয়ে মোদী: বাংলা ভাষা-সাহিত্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। কিন্তু বাংলা ভাষা তখনই ক্লাসিক্যাল ভাষা মর্যাদাও তখনই মিলেছে, যখন আপনারা বিজেপিতে দিল্লির সরকার বানিয়েছেন। বাংলা ভাষা নিয়ে রিসার্চ হবে। দুর্গাপুজো UNESCO-তে  কালচারাল হেরিটেজের মর্যাদা মিলেছে। এই তৃণমূলের লোক, দিল্লিতে যখন সোনিয়া গান্ধীর সরকারে অংশীদার ছিলেন, তখন এই সব কাজ করাতে পারতেন না? কিন্তু কেন পারেননি? মোদীর বাংলার প্রতি ভালবাসা রয়েছে, সম্মান রয়েছে। আমাদের সরকারের চেষ্টায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের বিশ্ব ধরোহরের মর্যাদা মিলেছে। বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ-মহাপুরুষদের জন্মজয়ন্তীর দিবস জাতীয় স্তরে পালনের চেষ্টা করে কেন্দ্র।
  10.  ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ স্কিম: বিজেপি বাংলার বিকাশে গতি আনবে। বাংলায় বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।  এখানে ধনিয়াখালির শাড়ি রয়েছে, জুট রয়েছে, হ্যান্ডলুম রয়েছে। বিজেপি ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ স্কিমের দ্বারা প্রত্যেক জেলার প্রোডাক্ট উৎপাদনে উৎসাহ দেবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্লাস্টিক নিয়ে কঠোর রীতি বানানো হবে। জুটের প্যাকেজিংয়ের ওপর আরও নজর দেবে।
  11.  বিশ্বের বাজারে বাংলার সবজির প্রসার নিয়ে মোদী: আলু-পেঁয়াজ এখানে ভীষণ ভাল হয়। বিশ্বে সবুজ সবজির প্রচুর চাহিদা, প্যাকেট সবজির জন্য বিশ্বে বড় মার্কেট রয়েছে। আমার স্বপ্ন বিশ্বের সব বাজারে বাংলার কৃষি-চাষি-মৎস্যজীবীর উৎপাদন ‘ধুম মাচায়ে’। দেশ জুড়ে ফুড প্রসেসিং ফেসিলিটি ও কোল্ড স্টোরেজে চেইন বানানোর কাজ হচ্ছে। বিজেপি সরকার এই কাজকে আরও তরন্বীত করবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।
  12.  মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কীভাবে প্রতারণা করছে রাজ্য সরকার, বললেন মোদী: এখানকার যুব সমাজ, মহিলা, চাষিদের সঙ্গে শত্রুতা করছে। বাংলার মৎস্যজীবীদের সঙ্গে তৃণমূল কীভাবে শত্রুতা করছে, তার উদাহরণ দিচ্ছে। বাংলায় লাখো পরিবার মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এখান থেকে যত মাছ এক্সপোর্ট হয়, তার থেকে অনেক বেশি উৎপাদনের ক্ষমতায় বাংলায় রয়েছে। বাংলার মৎস্যজীবীদের মধ্যে সেই শক্তিও রয়েছে। আমাদের মৎস্যজীবীদের সাহায্য, উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন। দেশের মৎস্যজীবীদের জন্য একটা ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্ম বানানো হয়েছে। দেশের রাজ্য সরকার নিজেদের রাজ্যের মৎস্যজীবীদের নাম রেজিস্ট্রার করাচ্ছেন,  কিন্তু বাংলায় এই কাজে ব্রেক লাগানো হয়েছে। আমরা তৃণমূল সরকারকে বারবার চিঠি লিখেছি. মুখ্যমন্ত্রী না পড়তে পারেন, কিন্তু অফিসাররা তো পড়তে পারতেন! তৃণমূল সরকার বাংলার মৎস্যজীবীদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য একদম সহযোগিতা করছে না। তাতে এখানকার মৎস্যজীবীরা পিএম মৎস্য সম্প্রদায় যোজনার মতো কেন্দ্রের স্কিমের সুবিধা পাচ্ছেন না।
  13. আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে মোদী: হাজারও আধুনিক পিএমশ্রী স্কুল খোলা হচ্ছে, কিন্তু সেই সুবিধাও বাংলা পাচ্ছে না। দেশের যে সরকার বিকাশকে আটকায়, গরিবদের কল্যাণমূলক কাজে বাধা হয়, দেশেরবাসী তাদের মেনে নেবে না। দিল্লির গরিব পরিবার আয়ুষ্মান ভারত স্কিমের সুযোগ পেতে দিন, বাংলায় তা চালু হতে দিন, কিন্তু দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তা শুনতেনই না। রাজনৈতিক হিসাব নিয়ে  চলতেন। তাই দিল্লির মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। দিল্লিতে এখন আয়ুষ্মান যোজনায় গরিবরা বিনা পয়সায় চিকিৎসা পান। এবার বঙ্গবাসী নির্মম সরকারকে শাস্তি দেবে।
  14. ডবল ইঞ্জিন সরকার: যেখানেই ডবল ইঞ্জিন সরকার, সেখানেই ভীষণ ভাল কাজ হচ্ছে। সেখানে প্রত্যেক ঘরে জল পৌঁছেছে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার অভিযান চালাচ্ছে। ত্রিপুরায় আগের সরকারে ১০০ মধ্যে কেবল ৪ টে ঘরে নলের মাধ্যমে জল আসত, এখন বিজেপি সরকারে ১০০-র মধ্যে ৮৫ টা ঘরে কলের জল আসে। বিজেপিকে আপনার একটা ভোট পাক্কা করবে, শিক্ষায় আর দুর্নীতি হবে না, সন্দেশখালি হবে না, কেউ চাকরিহারা হবেন না। তৃণমূলের আমলে ছোট ছোট নেতা বাবার জায়গা মনে করছেন, হুগলিতে তো বিশেষ করে! বাংলায় প্রয়োজন বিজেপির সুশাসন।
  15.  অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মোদী: গত ১১ বছর ধরে কেন্দ্র সরকার তৃণমূল সরকারকে চিঠি করে বলেছে, বাংলার সীমান্তে ফেন্সিং লাগাতে হবে, জমি প্রয়োজন। কিন্তু তৃণমূলের তাতে কিছু যায় আসে না। এমন লোককে মদত দেয়, যারা অনুপ্রবেশ করান, যাতে ভুয়ো নথি বানিয়ে দেয়। অনুপ্রবেশ পুুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। যাঁরা ভুয়ো নথি বানাচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে তাদের নিজেদের দেশে পাঠাতে হবে।