
নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে আরও একবার প্রসাঙ্গিক হয়ে উঠল ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ শব্দবন্ধটি। যাতে রাজ্যে ১ কোটি ৩৬ লক্ষের নাম রয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। তৃণমূলের রাজ্যসভার দুই সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলারই শুনানি ছিল এদিন। এদিন তাঁদের হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল।
সওয়াল জবাবের শুরুতেই আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি কী?” তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বয়সের ফারাক নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকার কারণে তথ্যগত গড়মিল বলা হচ্ছে। নামের উচ্চারণে ফারাকের কারণে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের আবেদন জানান সিব্বল।
নির্বাচন কমিশনের তরফে আইনজীবী ছিলেন রাকেশ দ্বিবেদী। তাঁর বক্তব্য, যেখানে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক ১৫ বছর, সেই সমস্ত কেসেই শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে।
তখন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন করেন, “যে দেশে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যায়নি, সেই দেশে কি এই ফারাক খুব অসঙ্গত?” রাজ্যের আইনজীবী বলেন, “বাবা মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক, দাদু ঠাকুমার সঙ্গে বয়সের ফারাক থেকে ভোটার তালিকার নাম বাদ দেওয়ার প্রাসঙ্গিক মাপকাঠি হতে পারে না।” তখন কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী জানান, ৭ জন এমন ব্যক্তি পাওয়া গিয়েছে, যাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের ১০০ জন সন্তান। প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, ” হতেই পারে এটা টাইপের ভুল।”
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের নামের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ব্লক অফিসে এবং শহরে ওয়ার্ড অফিসে টাঙানোর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে, নির্দেশ প্রধান বিচারপতির।
এরপরই আইনজীবী কপিল সিব্বল বিএলএ-দের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ” বিএলএ-রা কেন শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না?”
প্রধান বিচারপতি তখন কমিশনের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, তাঁরা যখন বলছেন যে একটু স্বচ্ছ, পক্ষপাতহীন প্রক্রিয়ায় সমস্ত রাজনৈতিক দলকে শামিল করে SIR সম্পন্ন করতে চান, তখন BLA এর কেন নেওয়া হচ্ছে না?
কমিশনের তরফে আইনজীবী ছিলেন রাকেশ দ্বিবেদী জানান, আলাদা আলাদা রাজনৈতিক দলের সদস্যরা বিএলএ হিসাবে গোটা প্রক্রিয়ার মাঝে থেকে ঝগড়া করছেন। এভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না। তাতে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে।
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “যাঁরা শুনানির জন্য ডাক পাচ্ছেন, তাঁরা সওয়াল করার জন্য তাঁদের প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারেন। তাঁরা বিএলও হতে পারেন। আপনারা এটা বিচার মনে করছেন না?” কারা ম্যাপ এবং কারা আনম্যাপড তাদের তালিকাও প্রকাশের কথা বলা হয়।
এই কথা প্রসঙ্গেই উঠে আসে হোয়াট্যাসঅ্যাপে বিএলও-দের নির্দেশ প্রসঙ্গ। যে প্রসঙ্গ খোদ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে উত্থাপিত করেছিলেন। এদিন সওয়াল জবাবের সময়ে রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “CEO নিজে DEO দের হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দিচ্ছেন। কোনও পরিস্থিতিতে বিএলও-দের যেন শুনানিতে হাজির হতে দেওয়া না হয়। হোয়াটসঅ্যাপে কীভাবে সরকারি নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে?”
তখন রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায় টেনে আনেন বাঁকুড়ার তালডাংরার প্রসঙ্গ। আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “কোন একজন ব্যক্তি, যিনি রাজনৈতিক দলের সদস্য, তাঁর কাছে প্রচুর পরিমাণ ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে।”
প্রধান বিচারপতি তখন স্পষ্ট করে দেন, “সরকারি নির্দেশ যতই হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া হোক, যতক্ষণ না সার্কুলারের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে, তা সরকারি নির্দেশ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।”