
কলকাতা: কয়লা কেলেঙ্কারিতে এবার রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নাম জড়িয়ে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পদক্ষেপ শুভেন্দুর। মুখ্যমন্ত্রীকে মানহানির চিঠি পাঠালেন তিনি। আইনজীবী সূর্যনীল দাসের মাধ্য়মে চিঠি পাঠিয়েছেন শুভেন্দু। চিঠির বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রমাণ দিতে হবে। আর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রমাণ না দিতে পারলে মানহানির জন্য আইনি পথে ব্যবস্থা নেবেন শুভেন্দু অধিকারী।
Today, CM Mamata Banerjee, in a desperate attempt to divert attention from an ongoing ED investigation, made absolutely baseless defamatory allegations against me, linking me to an ‘alleged’ coal scam alongside the Hon’ble Union Home Minister.
These reckless statements, laced… pic.twitter.com/bCNtb4XcW7
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 9, 2026
শুভেন্দু অধিকারীকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার। মুখ্যমন্ত্রীকে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জড়িয়ে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই এই আইনি চিঠি নন্দীগ্রামের বিধায়কের। চিঠিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
IPAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে বাংলা তথা গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির মাঝে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রীকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধে দাবি করেছিলেন, ইডি-র মাধ্যে তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
যদিও ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এই তল্লাশি চলছিল। গোটা দেশের ১০ জায়গায় তল্লাশি চলছিল। তার মধ্যে ৬টি বাংলায় ও চারটি দিল্লিতে। ইডির বক্তব্য, এই তদন্তে হাওয়ালা-যোগও উঠে আসে। আর এখানেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির দাবি, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড, অর্থাৎ আইপ্যাকের মাধ্যস্থতার হাওয়ালায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বয়ানে এই প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে। সেই কারণেই তল্লাশি।
কিন্তু এই তল্লাশি প্রসঙ্গেই সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বেলাগাম আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ওরা বলছে কয়লার টাকা! কে খায়? অমিত শাহ খায়। গদ্দারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়। সাথে আছে জগন্নাথ। পুরীর জগন্নাথ নয়। জগন্নাথের সরকার। ওঁর মাধ্যম দিয়ে টাকা যায় শুভেন্দুর কাছে। তারপর সেই টাকা অমিত শাহের কাছে যায়।” এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এবার প্রমাণ চেয়ে চিঠি পাঠালেন শুভেন্দুর আইনজীবী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দত্তক সন্তান বলেও নিশানা করেছেন। যা অপমানজনক বলেই মত শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবীর।