
বাঁকুড়া: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রথম থেকেই নানা প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ নিয়ে মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়া থেকে কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ঘরে বসে এআই দিয়ে নাম কাটা হচ্ছে। কমিশনকে দিয়ে বিজেপি এসব করাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ন্যায্য ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লি ও বাংলায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন।
নতুন প্রজন্মের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে এদিন বড়জোড়ার সভা থেকে মমতা বলেন, “আমার কাছে খবর রয়েছে। আমি খবরটা চেক করছি, আপনারাও করুন। ইয়ং জেনারেশন, যাঁরা নতুন ভোটার হচ্ছেন, তাঁরা অনলাইনে ৬ নম্বর ফর্ম ফিলাপ করছেন। কিন্তু, জেনে রাখুন, সেগুলোকে বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখা হচ্ছে। তোলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, এর সঙ্গে ৪ নম্বর ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। মনে রাখুন নতুন ভোটাররা। টার্গেট করেছে বয়স্ক ভোটার ও নবপ্রজন্মকে। টার্গেট করেছে আদিবাসীদের, টার্গেট করেছে তফসিলিদের, টার্গেট করেছে হিন্দু থেকে মুসলিম সবাইকে। নমঃশুদ্র, মতুয়া, রাজবংশীদের নাম বাদ দিয়েছে।”
নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে বিজেপি এসব করছে বলে সরব হন মমতা। নাম না করে নিশানা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমি একজন ভ্যানিশ কুমারের কথা বলছি। নকল ভ্যানিশ কুমার। ঘরে বসে নাম কাটছে। এআই দিয়ে। একদিন দেখবেন আপনার নামটাই কেটে গিয়েছে। বিজেপি চিরকাল থাকবে না। সেদিন মনে রাখবেন। নিজের পরিবার গোছানোর জন্য বিজেপির দালালি। একটা ন্যায্য লোকের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। আর যদি দেন, আন্দোলন দিল্লিতে হবে। আন্দোলন বাংলাতেও হবে।”
মমতাকে জবাব দিয়ে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, “জনতা তাঁকে গদি থেকে সরাবেন, এটা তিনি বুঝে গিয়েছেন। তাই ভুলভাল বকছেন। উনি ভুয়ো ভোটার তৈরি করে রেখেছেন। আগামিদিন টিকে থাকতে পারবেন না, সেটা নিশ্চিত জেনে গিয়েছেন। জালিয়াতি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বলে এইভাবে অসাংবিধানিক আক্রমণ করছেন। এআই দিয়ে হোক, যেভাবে হোক, যে নামগুলো বাদ যাবে, তাঁরা যদি ভারতীয় না হন, তাহলে কেন থাকবে, তা জানতে চাইছেন সাধারণ মানুষ।”