Malda: মালদহে থমকে গেল উন্নয়নের পাঁচালির প্রচার, বিধানসভা ভোটে ‘আম-আমসত্ত্ব’ পৌঁছবে তৃণমূলের ঘরে?
TMC Unnayoner Panchali: হরিশ্চন্দ্রপুরে মাত্র দুইদিন প্রচার হয়েছে। তারপর প্রচার বন্ধ। কারণ এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের টোটো ইউনিয়নের টোটোচালকরা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। মাইক এবং টোটো ভাড়া-সহ প্রত্যেকদিন টোটো পিছু হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা। কিন্তু দুইদিন চালানোর পর ব্লক সভাপতি তোবারক হোসেন এবং বিধায়ক তাজমুল হোসেনের কাছে টাকা চাইতে গেলে, একে অন্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। ফলে নিরুপায় হয়ে প্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন টোটোচালকরা।

মালদহ: রাজ্যজুড়ে উন্নয়নের পাঁচালির প্রচার করছে তৃণমূল। কিন্তু, মালদহে সেই প্রচার থমকে গেল। হরিশ্চন্দ্রপুরে উন্নয়নের পাঁচালির প্রচার করতে চাইছেন না টোটোচালকরা। অভিযোগ, প্রচারের জন্য টাকা পাচ্ছেন না তাঁরা। টোটোচালকদের বক্তব্য, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বলছেন টাকা নিতে বিধায়ক তথা মন্ত্রীর কাছে যেতে। বিধায়ক বলছেন ব্লক সভাপতির কাছে যেতে। টোটো চালকদের টাকা দিচ্ছে না কেউই। অথচ ওই টোটোচালকরা তৃণমূলের টোটো ইউনিয়নের সদস্য। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মালদহ জেলায় আসার আগে এই নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব।
রাজ্য সরকারের উন্নয়নকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিধানসভার প্রাক্কালে উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরছে টোটো। একমাস সেই কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক বিধানসভায়। কিন্তু হরিশ্চন্দ্রপুরে মাত্র দুইদিন প্রচার হয়েছে। তারপর প্রচার বন্ধ। কারণ এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের টোটো ইউনিয়নের টোটোচালকরা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। মাইক এবং টোটো ভাড়া-সহ প্রত্যেকদিন টোটো পিছু হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা। কিন্তু দুইদিন চালানোর পর ব্লক সভাপতি তোবারক হোসেন এবং বিধায়ক তাজমুল হোসেনের কাছে টাকা চাইতে গেলে, একে অন্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। ফলে নিরুপায় হয়ে প্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন টোটোচালকরা।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্দরেই ক্ষোভ জন্মেছে। জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খানের অভিযোগ, বিধায়ক যেখানে দায়িত্বে রয়েছেন, সেখানে তাঁর টাকা দেওয়া উচিত। আর না পারলে তাঁদের বলুন। এমনকি এই ঘটনা দলের পেশাদার পরামর্শদাতা স্বংস্থাও (আইপ্যাক) জানে বলে দাবি বুলবুলের। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সাহেব দাসও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও শীত পড়েছে, তাই পরবর্তীতে প্রচার শুরু হবে বলে সাফাই দিয়েছেন ব্লক সভাপতি তোবারক হোসেন। প্রতিক্রিয়া মেলেনি মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের।অপরদিকে এই নিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। তাদের বক্তব্য, চুরি-কাটমানি ছাড়া তৃণমূল কিছু বোঝে না।
মালদহের দুটি লোকসভা কেন্দ্রের একটাতে না জেতা নিয়ে একবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “মালদহে লোকসভা নির্বাচনে আমরা জিতিনি। আমি জানি না কেন আপনারা আমাদের ভুল বুঝলেন, হয়তো আমাদেরই দুর্ভাগ্য। একটা সিট বিজেপিকে, একটা কংগ্রেসকে। ওরা কোনওদিন কিছু করেছে আপনাদের জন্য? তাও ভুল বুঝিনি আমি। আমি বিশ্বাস করি, ছাব্বিশে মালদহের আম আমসত্ত্ব আমরা পাবই।” ছাব্বিশের নির্বাচনে মালদহে তৃণমূল আম ও আমসত্ত্ব পায় কি না, সেটাই দেখার।
