
বারাসত: দরজার কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। আর ভোটকে মাথায় রেখেই বারাসত সাংগঠনিক জেলার জন্য নির্বাচনী কোর কমিটি গঠন করেছে তৃণমূল। আর সেই কোর কমিটি সামনে আসার পরই নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এমনিতে, তৃণমূলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। কিন্তু, নির্বাচনী কোর কমিটিতে তিনি একজন সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তাঁর ‘মাথায়’ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী রথীন ঘোষ। আর কমিটির সহ-আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। কমিটিতে কাকলির ‘মাথায়’ জ্যোতিপ্রিয়কে বসানো নিয়েই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনী কোর কমিটিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক যেমন সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন, তেমনই সদস্য হিসেবে রয়েছেন আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশ। রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয়র পাশাপাশি আনিসুরকেও গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত সংসদীয় জেলার সাতটা নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন, কীভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে এই কোর কমিটি।
রেশন মামলায় অভিযুক্ত ২ জন তৃণমূলের এই কোর কমিটিতে থাকা নিয়ে খোঁচা দিয়েছে বিরোধীরা। বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, “এটা তৃণমূলের নিজস্ব ব্যাপার। আমাদের এটা নিয়ে কিছু বলার নেই। কিন্তু, কোর কমিটিতে দেখে গিয়েছে, দুর্নীতির দায়ে জেলে যাওয়া ২ জনকে রেখেছে। তৃণমূল যাই করুক, এবার বারাসতে পদ্ম ফুটবে।” কাকলির ‘মাথায়’ কমিটিতে জ্যোতিপ্রিয়কে বসানো নিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল নিশ্চয় তাঁর উপর আস্থা রাখতে পারেননি। তাই তাঁর মাথায় বসিয়েছেন।”
তৃণমূলের কমিটি নিয়ে খোঁচা দিয়েছে বামেরাও। বারাসতের সিপিএমের শাখা সম্পাদক রাহুল নাগ বলেন, “তৃণমূল মানে যত দুর্নীতি করবে, তত মাথার উপর বসবে। যে যত দুর্নীতি করে জেল খেটে আসবে, সে তত মাথার উপর বসবে। এই জন্যই তো তৃণমূলের নেতারা দুর্নীতি করে।” কাকলির ক্ষমতা খর্ব করা হল কি না, এই নিয়ে তিনি বলেন, “এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু, বারাসতের তৃণমূলের জেলা সভাপতির ক্ষমতা নিশ্চয় খর্ব করা হল।”
নির্বাচনী কোর কমিটি নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণকে পাত্তা দিতে চাইলেন না খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনি বলেন, “সভাপতি কাকলি ঘোষদস্তিদার কমিটির মধ্যেই আছেন। তাঁকে নিয়েই আমরা কাজ করব।” তাঁর বক্তব্য, “নির্বাচন যাতে আমরা সবাই মিলেমিশে করতে পারি, সেজন্য ১৬ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাতে যেমন তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি রয়েছেন। তেমনই প্রবীণরা রয়েছেন। আগেরবার বারাসত সাংগঠনিক জেলার সাতটা আসনই জিতেছিলাম। এবারও সব আসনে কীভাবে জয় আসবে, তা নিয়ে আলোচনা করে এগোব।” কমিটিতে জ্যোতিপ্রিয় ও আনিসুরকে রাখা নিয়ে রথীন বলেন, “তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ বিচারাধীন বিষয়। এখনও দোষী সাব্যস্ত হননি। ফলে এগুলো আমরা এখন ভাবব কেন? দল তাঁদের অভিজ্ঞতাকে মান্যতা দিয়েছে। আমরা সেটাকে কাজে লাগাব।”
তৃণমূলের এই নির্বাচনী কোর কমিটি নিয়ে বারাসতের বেশিরভাগ মানুষের বিশেষ কোনও উৎসাহ নেই। তাঁদের বক্তব্য, চাকরি, শিক্ষার উন্নতি করাতে হবে। এই কাজ যে সরকার করবে, তাদের পাশে সাধারণ মানুষ থাকবেন। এই কোর কমিটি আদৌ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ভালো ফল আনতে পারবে কি না সেটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন।