Puducherry Election Result: প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন! কোন হাতে গেল পুদুচেরি?

৩০ আসনের পুদুচেরিতে কার্যত ম্যাজিক ফিগার পেয়েই গিয়েছে এনডিএ জোট।

Puducherry Election Result: প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন! কোন হাতে গেল পুদুচেরি?
ফাইল চিত্র

পুদুচেরি: পুদুচেরি হাতছাড়া হতে চলেছে কংগ্রেস (Congress) জোটের। গত বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও মাঝপথে সরকার ভেঙে পড়েছিল ভি নারায়ণস্বামীর। শাসনভার গিয়েছিল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাতে। তারপর দামামা বেজেছিল বিধানসভা নির্বাচনের। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ জোটে নির্বাচন লড়েছিল ডিএমকে, সিপিআই, ভিসিকে-সহ অন্যান্য দল। অন্যদিকে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোটে ছিল অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস ও এআইএডিএমকে। ২ মে ফলঘোষণার শুরুতে বিজেপি-কংগ্রেস নয়, লড়াইয়ে আসে এনআর কংগ্রেস। হাতের সঙ্গে জোর টক্কর শুরু হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামী দলের। আর শেষ হাসিটাই হাসল এনআর কংগ্রেসই। পুদুচেরির ১০ আসন তাদের দখলে।

বিজেপির ঝুলিতে আপাতত ৩ আসন। অন্য ৩ আসনেও এগিয়ে আছেন পদ্মপ্রার্থী। অর্থাৎ ৩০ আসনের পুদুচেরিতে কার্যত ম্যাজিক ফিগার পেয়েই গিয়েছে এনডিএ জোট। সরকার গড়ার লক্ষ্যে পা বাড়াচ্ছে তারা। কিন্তু বিজেপির নেতৃত্বে এই জোট হলেও প্রাধান্য বেশি এনআর কংগ্রেসের। যে লড়াই হাত আর পদ্মের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল, সেই লড়াই হচ্ছে হাত ও এন আর কংগ্রেসের মধ্যে। কংগ্রেসের সরকার আগেই আস্থাভোটে সংখ্যালঘু হয়েছিল পুদুচেরিতে। এ বারের বিধানসভা নির্বাচন ছিল ভাগ্য পরীক্ষার। যদি কংগ্রেসর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত, তাহলে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ফের পুদুচেরিতে কায়েম হত কংগ্রেসের শাসন। ৩০ আসনে স্রেফ ২ টি আসনই নিজেদের ঝুলিতে রাখতে পেরেছে কংগ্রেস। যেখানে ২০১৬ বিধানসভায় তারা ১৫টি আসন পেয়েছিল। যা থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা স্পষ্ট বলছেন, শক্ত মাটি কার্যত হাতছাড়া হল কংগ্রেসের।

পুদুচেরিতে বিধানসভায় মোট আসন সংখ্যা ৩৩। এরমধ্যে তিনটি আসনে রয়েছেন কেন্দ্র মনোনীত প্রার্থীরা। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ৩০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস মোট ১৫টিতে জয়লাভ করে। তাঁদের জোটসঙ্গী ডিএমকে-র ঝুলিতে যায় ২টি আসন। এক নির্দল বিধায়ককে নিয়ে মোট ১৮টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে কংগ্রেসের জোট। তবে গতবছর দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য এক কংগ্রেস বিধায়ককে দল থেকে বহিস্কার হতে হয়।

Puducherry seat allotment before and after trust vote

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির মধ্যে এনআর কংগ্রেস মোট আটটি আসনে জিতেছিল। এআইএডিএমকে-র দখলে ছিল তিনটি আসন। বিজেপি নির্বাচনে কোনও আসন না পেলেও মনোনীত তিনটি আসনের বিধায়করা আদপে বিজেপির সদস্য। ২০১৯ সালে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় এনআর কংগ্রেসের এক বিধায়ককে বিতাড়িত হতে হয়। ২০১৯ সালে সেই উপনির্বাচনে এই আসন দখল করে ডিএমকে, ফলে তাদের আসন সংখ্যা বেড়ে তিন হয়।

এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে পদত্যাগের পালা শুরু হয়। প্রথম ধাপে দুই ভাগে মোট কংগ্রেসের চার বিধায়ক পদত্য়াগ করেন। ফলে শাসক জোটের আসন সংখ্যা কমে ১৪-এ পৌঁছয়। শাসক ও বিরোধী দল-উভয়ের আসন সংখ্যা ১৪-এ পরিণত হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে সরকার, এমনটাই দাবি তোলে বিরোধী দল। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও করে বিজেপি (BJP)। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামী সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এগুলি বিরোধী দলের চক্রান্ত।”

আরও পড়ুন: কেরলে ইতিহাস! আরও একবার সরকার গড়ছেন পিনারাই বিজয়ন

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla