
ভাটিন্ডা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় বিভ্রাট (Security Lapse)। পঞ্জাবে গিয়ে উড়ালপুলের উপর প্রায় ২০ মিনিট আটকে ছিল প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে হুসেনিওয়ালার দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় যাত্রাপথে এক উড়ালপুলের উপর তাঁর কনভয় যখন উপর পৌঁছয়, তখন দেখা যায় যে বেশ কিছু বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে। এরপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আকাশপথে ভাটিন্ডায় নিয়ে আসেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
বিমানবন্দরের আধিকারিকরা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ভাটিন্ডা বিমানবন্দরে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁদের বলেছেন, “ভাটিন্ডা বিমানবন্দর পর্যন্ত জীবিত ফিরতে পেরেছি, এর জন্য আপনাদের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাবেন।”
মাসখানেক পরেই পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে এভাবে বিক্ষুব্ধ জনতা কীভাবে চলে এলেন, তা নিয়ে পঞ্জাবের কংগ্রেস শাসিত সরকারের তুমুল সমালোচনা শুরু করেছে বিজেপি শিবির। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা টুইটারে চরণজিৎ সিং চন্নির সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। লিখেছেন, এটা দুঃখজনক যে পঞ্জাবের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর ব্যাহত হয়েছে। তবে আমরা এই ধরনের মানসিকতাকে পঞ্জাবের উন্নয়নের পথে বাধা হতে দেব না। পঞ্জাবের উন্নয়নের জন্য আমাদের উদ্যোগ চালিয়ে যাব।”
নাড্ডা আরও অভিযোগ করেছেন যে পঞ্জাব সরকার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে “ব্যাপক ভরাডুবির ভয়ে” প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য “সব সম্ভাব্য কৌশল” চেষ্টা করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কনভয় আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় ভীষণভাবে বিরক্ত বিজেপি শিবির। পঞ্জাবের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে জে পি নাড্ডার অভিযোগ, তারা (কংগ্রেস) “উন্নয়ন বিরোধী” এবং “মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের কোনও সম্মান নেই”। তিনি অভিযোগ করেন যে পঞ্জাবের মুখ্য সচিব এবং পুলিশের কমিশনারের তরফে বলা হয়েছিল ‘রুটে’ কোনও সমস্যা নেই। তারপরেও বিক্ষোভকারীরা কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের রুটে ঢুকে পড়ল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জে পি নাড্ডার। তাঁর অভিযোগ, “বিষয়টি আরও খারাপ করার জন্য, মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নি বিষয়টির সমাধানের জন্য ফোন পর্যন্ত করেননি। পঞ্জাবে কংগ্রেস সরকার যে কৌশল ব্যবহার করেছে তা গণতান্ত্রিক নীতিতে বিশ্বাসী যে কোনও ব্যক্তিকে চিন্তায় ফেলবে।”