বামের থেকে রামে গিয়েই টিকিট, শিলিগুড়িতে এবার ‘গুরু-শিষ্যে’র লড়াই

 যদিও ‘বিশ্বাসঘাতক’ শঙ্করের দাবি, তিনি এখন নতুন দলের সদস্য। তাই প্রাক্তন দলের কে কী বলল তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন তিনি।

বামের থেকে রামে গিয়েই টিকিট, শিলিগুড়িতে এবার ‘গুরু-শিষ্যে’র লড়াই
নিজস্ব চিত্র

জলপাইগুড়ি: কিছুদিন আগেই বাম শিবির (CPM) ত্যাগ করে রাম শিবিরে (BJP) গিয়েছিলেন তিনি। এবার তাঁকেই বিজেপির তরফে শিলিগুড়িতে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হল। তিনি সদ্য সিপিএম ত্যাগী শঙ্কর ঘোষ।

গত ১২ মার্চ, ‘নীতি আদর্শ’ বজায় রাখতে বাম শিবির থেকে রাম শিবির অভিমুখে যাত্রা করেন শঙ্কর। তাঁর স্পষ্ট দাবি ছিল, “সিপিএমে এখন নীতির ঠিক নেই। ভোটের লক্ষ্যে এরা সিদ্দিকির সঙ্গে জোট করছে। যাঁরা জিতেই যাচ্ছেন তাদের ফের টিকিট দিচ্ছে। যাঁরা হেরে চলেছেন তাঁদেরও সিপিএম ফের টিকিট দিচ্ছে। নতুনদের জায়গা কোথায়? দমিয়ে রাখার নীতি?”

এর পরেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা বলেন, “বিজেপি দেশের কথা বলে। তাই এখানে এসেছি। এখন প্রধানমন্ত্রীই আমার আদর্শ। জনসেবা করতে চাই।” এদিকে, শিলিগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক তথা শঙ্করের একদা ‘গুরু’ অশোক ভট্টাচার্য (Ashok Bhattacharya) ‘শিষ্যের’ দলত্যাগ নিয়ে টুঁ শব্দটি করেননি।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে শঙ্কর সেদিন আরও বলেন, ‘টিকিট নিয়ে অন্য রাজনৈতিক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া আর আমার পদত্যাগের বিষয়টি এক নয়। চিরকাল বামপন্থাকে সামনে রেখেই লড়াই করেছি। নীতি আদর্শ একটি বিষয়।’

বৃহস্পতিবার, বিজেপির (BJP) প্রার্থী তালিকায় শিলিগুড়িতে শঙ্করকে মনোনীত করতেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে, শিলিগুড়িতে এবার ‘গুরু-শিষ্যের’ লড়াই দেখা যাবে।

যদিও, এ মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে শঙ্কর বলেন, ‘রাজনীতিতে সকলেই আমার গুরু। আমি সবার থেকেই শিখি। নির্দিষ্ট করে একজন আমার গুরু নন। বিজেপি আমায় প্রার্থী করায় আমি খুশি।’ এদিন, সদ্য বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর জানান, শিলিগুড়িতে পরিবর্তন হবেই।

অধুনা বিজেপি নেতা ও একদা ‘শিষ্যের’ এই চ্যালেঞ্জকে যদিও আমল দেননি শিলিগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্টই বলেন, ‘রাজনীতিতে কেউ কারোর গুরু হয় না। ছায়াসঙ্গীও হয় না। লড়াইটা ব্যালট বাক্সে হবে।’ আত্মপ্রত্যয়ী অশোক এইদিন জানান, শিলিগুড়িতে জিতবেন তিনিই।

একদা ‘গুরু-শিষ্য’ নামে পরিচিত অশোক-শঙ্কর জুটি ভেঙে যাওয়ায় বাম শিবিরে কি কোনও প্রভাব ফেলতে পারে? এ প্রসঙ্গে বাম সমর্থকদের দাবি, টিকিট পাননি বলেই দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন শঙ্কর। মানুষ সবই দেখছে। বিশ্বাসঘাতকতার জবাব মানুষই দেবে।

যদিও ‘বিশ্বাসঘাতক’ শঙ্করের দাবি, তিনি এখন নতুন দলের সদস্য। তাই প্রাক্তন দলের কে কী বলল তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন তিনি। আপাতত, ‘পূর্বতন রসায়ন’-কে দূরে রেখে ‘নয়া সম্পর্কের ভিত’ মজবুত করতেই ব্যস্ত শঙ্কর।

আরও পড়ুন: ‘আয় মুকুল খেলবি আয়, এই মাটিতেই খেলবি আয়’, ‘চাণক্যকে’ ময়দানে আহ্বান কল্যাণের