Nana Patekar: একমাস আগেই নিজের মৃত্যুর কথা বলেছিলেন নানা পাটেকর!
Nana Patekar spoke about his own death: শেষ সাক্ষাৎকারে মৃত্যুর অনিবার্যতা, একজন অভিনেতা হিসেবে তাঁর জীবনের আসল উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত—তা নিয়ে একেবারে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেছিলেন তিনি। সমাজের চারপাশের ঘটনা তাঁকে কীভাবে তাড়িত করত, তা সেই কথায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।

গোয়ায় ৭৫ বছর বয়সে জীবনাবসান হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে গোটা চলচ্চিত্র দুনিয়া আজ শোকাচ্ছন্ন। সিলভার স্ক্রিনের এই রূঢ় অথচ অন্তরে নরম মনের মানুষটি মৃত্যুর ঠিক কিছুদিন আগেই ‘সিএনএন-নিউজ১৮’ (CNN-News18)-কে একটি একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। আর সেই শেষ সাক্ষাৎকারে মৃত্যুর অনিবার্যতা, একজন অভিনেতা হিসেবে তাঁর জীবনের আসল উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত—তা নিয়ে একেবারে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেছিলেন তিনি। সমাজের চারপাশের ঘটনা তাঁকে কীভাবে তাড়িত করত, তা সেই কথায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।
একজন অভিনেতা হিসেবে নিজের দায়িত্ব এবং ঠিক কী ধরনের গল্প তিনি পর্দায় বলতে চান, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নানা পাটেকর বলেছিলেন, মাঝেসাধ্যে হালকা চালের ছবি বা কমেডি যেমন ‘ওয়েলকাম’ করা ঠিক আছে, কিন্তু তাঁর কাছে যে এত বড় এবং প্রভাবশালী একটি মাধ্যম রয়েছে, তার মাধ্যমে যদি তিনি সমাজের কথা বা নিজের মনের কথা বলতে না পারেন, তবে তাঁর অভিনেতা হওয়ারই বা কী লাভ!
তিনি আরও বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, একজন অভিনেতার চারপাশের ঘটনা দেখে সংবেদনশীল হওয়া উচিত এবং সেই যন্ত্রণা বা আবেগ ক্যামেরার সামনে ফুটিয়ে তোলা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। নানার কথায়, তাঁর চারপাশের ঘটে চলা ঘটনায় তাঁর নিজের কষ্ট পাওয়া উচিত এবং তা সকলের সামনে তুলে ধরার মাধ্যম হল এই ক্যামেরা। সেই সব অর্থপূর্ণ গল্পের অংশ যদি তিনি না হতে পারেন, তবে আর কী লাভ!
এই সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক দিক এবং জীবনের চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে অত্যন্ত দার্শনিক এক মন্তব্য করেছিলেন নানা পাটেকর। তিনি বলেছিলেন, পেশার খাতিরে কমার্শিয়াল বা তথাকথিত অবান্তর ছবিও করতে থাকবেন, টাকা-পয়সাও কামাবেন; কিন্তু আজ আছি, কাল মারা যাব।—এই চরম সত্যে বিশ্বাস রেখেই তিনি বর্তমান ক্ষণটিকে সুন্দরভাবে বাঁচতে ভালোবাসেন।
আজ যখন সেই প্রবীণ অভিনেতা চিরতরে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তখন তাঁর এই শেষ কথাগুলো যেন তাঁর গোটা জীবনদর্শন এবং শিল্পসত্তারই এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি হয়ে রয়ে গেল।
