AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Aamir Khan: ‘জীবনের একটা বিরাট অংশ আমি হারিয়ে ফেলেছি’, হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললেন আমির খান, কী ঘটল?

Aamir Khan regrets: কেরিয়ারের শুরুর দিকের মানসিক যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন ও আবেগপ্রবণ দিকগুলো তুলে ধরেন অভিনেতা।

Aamir Khan: 'জীবনের একটা বিরাট অংশ আমি হারিয়ে ফেলেছি', হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললেন আমির খান, কী ঘটল?
| Updated on: Oct 23, 2026 | 1:32 PM
Share

কর্মজীবনের তিন দশক ধরে পাগলের মতো কেরিয়ারের পিছনে ছুটে চলার খেসারত দিতে হয়েছে পরিবারকে। সন্তানের বড় হওয়ার মুহূর্তগুলো হারিয়ে ফেলার আক্ষেপ এবং কেরিয়ারের শুরুর দিকের মানসিক যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন ও আবেগপ্রবণ দিকগুলো তুলে ধরেন অভিনেতা।

চলচ্চিত্র উৎসবের এক আলোচনাসভায় নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবন ও অনুশোচনার কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে আমিরের। তিনি জানান, কোভিডকালের সেই স্থবির সময়ে বসে জীবনকে নতুন করে পর্যালোচনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

আমিরের কথায়, “কোনও একটা বিশেষ লক্ষ্য অর্জনের জন্য এক, দুই বা বড়জোর পাঁচ বছর উন্মাদনার মতো কাজ করাকে মানানসই বলা চলে। কিন্তু সেই অন্ধ দৌড় যদি টানা ৩০ বছর ধরে চলতে থাকে, তখন আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো তলিয়ে যায়। হঠাৎ একদিন ঘুম ভেঙে দেখবেন আপনার সন্তানেরা বড় হয়ে গিয়েছে, তারা এখন প্রাপ্তবয়স্ক। তখন মনে হয়, জীবনের একটা বিরাট অংশ আমি হারিয়ে ফেলেছি।” এই কথা বলতে বলতেই আবেগ সামলাতে পারেননি অভিনেতা। কান্নায় ভেঙে পড়ে কিছুক্ষণ কথা থামিয়ে রাখতে বাধ্য হন তিনি। পরে উপস্থিত দর্শকদের করতালির মধ্যে চোখের জল মুছে নিজেকে সামলান আমির।

তবে এই উপলব্ধি তাঁর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলেও জানান অভিনেতা। গত চার বছর ধরে সচেতনভাবেই কেরিয়ারের পাশাপাশি পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করছেন তিনি। স্বস্তির সুর ঝরে পড়ে তাঁর গলায়, “আমার খুব ভালো লাগে এই ভেবে যে, এই বোধশক্তি আমার ৫৬ বছর বয়সে এসেছে, ৮৬ বছর বয়সে নয়। কারণ তখন চাইলেও আর পরিস্থিতি বদলানোর কোনও উপায় থাকত না।”

বর্তমান সাফল্যের নেপথ্যে যে একসময় গভীর অনিশ্চয়তা ও মানসিক অবসাদ কাজ করেছিল, সে কথাও এদিন স্মরণ করেন আমির। ১৯৮৮ সালে তাঁর অভিষেক ছবি ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই সাফল্যের পর মাত্র ছ’মাসের মধ্যে ন’টি ছবিতে সই করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু কাজের চাপে দ্রুত ভুল বুঝতে পারেন অভিনেতা। আমির জানান, শুটিংয়ের ব্যস্ততা সামলে বাড়ি ফিরে তৎকালীন স্ত্রী রিনার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি।

এর পরেই একের পর এক ছবি বক্সঅফিসে ব্যর্থ হয় এবং তাঁকে ‘ওয়ান-ফিল্ম ওয়ান্ডার’ তকমা দেওয়া হয়। সেই সময়কার মানসিক চাপ বোঝাতে গিয়ে আমির বলেন, “মানসিক ও আবেগগত দিক থেকে মনে হতো আমি যেন কোনও চোরাবালিতে আটকে গিয়েছি। যত দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতাম, ততই আরও গভীরে তলিয়ে যেতাম।” ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমিরের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও খোলামেলা স্বীকারোক্তি অনুরাগীদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

Follow Us