ক্যামেরার সামনে রেখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলিউডের এই নায়ক! অমিতাভ নন, জানেন কে?
ছবির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল মানসির পতিতাবৃত্তির জগতে জড়িয়ে পড়া। তবে পরিচালক চরিত্রটিকে খলনায়িকা হিসেবে দেখাননি। বরং দেখিয়েছেন তাঁর দ্বন্দ্ব, অপরাধবোধ এবং ভেতরের অস্থিরতা। নব্বইয়ের দর্শকদের কাছে বিবাহিত এক নারীর এমন সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ ও বিতর্কিত।

বলিউডের ছবিতে সাহসী দৃশ্য নতুন নয়। বিশেষ করে এখন সকলেই অভ্য়স্ত। কিন্তু নয়ের দশকে এমন একটি ছবি এসেছিল যা মুক্তির পর দর্শকদের মনে অনেক প্রশ্ন তুলেছিল। জানেন কোন ছবি? ছবির নাম আস্থা: ইন দ্য প্রিজন অব স্প্রিং। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি সে সময়ের সামাজিক মানসিকতার তুলনায় ছিল অত্যন্ত দুঃসাহসিক। নারী আকাঙ্ক্ষা, বিবাহিত জীবনের অসন্তোষ এবং পতিতাবৃত্তির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের প্রেক্ষাপটে এই ছবি।
বাসু ভট্টাচার্য পরিচালিত এই ছবি বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। মূল চরিত্রে অভিনয় করেন রেখা, ওম পুরী এবং নবীন নিশ্ছল অভিনীত এই ছবি সেই সময়কার দর্শকদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। অনেকেই এই ছবিকে মেনেও নিতে পারেনি সেই সময়।
রেখার মতো জনপ্রিয় ও গ্ল্যামারাস অভিনেত্রীকে এমন বিতর্কিত চরিত্রে দেখে দর্শকদের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মানসি এক মধ্যবিত্ত গৃহবধূ। স্বামীকে ভালোবাসেন, সংসার সামলান, সন্তানের যত্ন নেন। কিন্তু একঘেয়ে জীবন আর আর্থিক টানাপোড়েনে তিনি ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি অনুভব করেন। ছোট ছোট চাওয়া-পাওয়া পূরণ না হওয়ার হতাশা তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে। এই দুর্বলতার সুযোগেই জীবনে আসে এক বিত্তশালী ব্যক্তি, আর সেখান থেকেই শুরু হয় নৈতিক টানাপোড়েনের পথচলা।
ছবির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল মানসির পতিতাবৃত্তির জগতে জড়িয়ে পড়া। তবে পরিচালক চরিত্রটিকে খলনায়িকা হিসেবে দেখাননি। বরং দেখিয়েছেন তাঁর দ্বন্দ্ব, অপরাধবোধ এবং ভেতরের অস্থিরতা। নব্বইয়ের দর্শকদের কাছে বিবাহিত এক নারীর এমন সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ ও বিতর্কিত।
রেখা ও নবীন নিশ্ছলের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়েও সে সময় বিস্তর আলোচনা হয়। অনেকেই মতে মূলধারার হিন্দি সিনেমা এতটা স্পষ্টভাবে যৌনতা আগে দেখায়নি। সেন্সর, নৈতিকতা ও সমাজের বদলে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে সেই সময় ঘোর তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় ।
