তিহার জেলে বড় শিক্ষা পেয়েছেন রাজপাল যাদব, নিজেই জানালেন কারাগারে দিনযাপনের কথা
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর প্রথম কাজ কী ছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা জানান, "আমি সোজাসুজি আমার গ্রামে চলে এসেছি। এখানে নিজের পরিবারের সঙ্গে ভাইঝির বিয়েতে আনন্দ করছি।" জেলের কোন স্মৃতি রয়েছে যা মনে থেকে যাবে? কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে রাজপাল বলেন, "একদমই না।

‘ঢোল’, ‘হাঙ্গামা’, ‘মালামাল উইকলি’ কিম্বা ‘ভুলভুলাইয়া’—যাঁর কমিক টাইমিং একসময় আসমুদ্রহিমাচলকে হাসিয়ে একসা করত, সেই রাজপাল যাদবের জীবন থেকে অবশেষে কাটল দুর্যোগের মেঘ। চেক বাউন্সের পুরনো মামলায় ১২ দিন তিহাড় জেলে কাটানোর পর দিল্লি হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন অভিনেতা। আর জেল থেকে বেরিয়েই তিনি ধরা দিলেন একবারে চেনা মেজাজে। সমাজমাধ্যমে এখন ভাইরাল তাঁর ভাইঝির বিয়েতে জমিয়ে নাচার একটি ভিডিও, যা দেখে স্বস্তিতে তাঁর অগণিত ভক্ত।
জেল থেকে ফেরার পর tv9 bharatvarsh-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা ও আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে সবিস্তারে মুখ খুলেছেন রাজপাল। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর প্রথম কাজ কী ছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা জানান, “আমি সোজাসুজি আমার গ্রামে চলে এসেছি। এখানে নিজের পরিবারের সঙ্গে ভাইঝির বিয়েতে আনন্দ করছি।” জেলের কোন স্মৃতি রয়েছে যা মনে থেকে যাবে? কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে রাজপাল বলেন, “একদমই না। মানুষ যা ভুলতে পারে, তাই মনে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু ওখানে যা অনুভব করেছি, তা কোনওদিন ভোলার নয়। ওটা আজীবন নিজের সঙ্গেই থেকে যায়।”
এই ঘটনা থেকে পাওয়া শিক্ষা নিয়ে রাজপাল বলেন, “প্রতিটি দিন আমাদের জীবনে নতুন অধ্যায়। সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, নিজের পরিবার এবং কাছের মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকা। আমি এখন সবার খুশিতে সামিল হতে চাই।” দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিনোদন জগতে টিকে থাকার কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন বলিউডকে। তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জানান, “ভারতীয় সিনেমা আমাকে সব দিয়েছে। ২০২৭ সালে মুম্বই শহরে আমার ৩০ বছর পূর্ণ হবে। এই দীর্ঘ সফরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি যে সমর্থন আমাকে দিয়েছে, তার জন্যই আমি আজ এখানে।”
রাজপাল যাদবের বড় ভাই সম্প্রতি জানিয়েছিলেন যে রাজপালের মতো ভাই পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, “ভাই তো ভাই-ই হয়। আমার পরিবারই আমার শক্তি। আমি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এ বিশ্বাসী। সারা পৃথিবীই আমার পরিবার। বিনোদনের মাধ্যমে আমি প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে পৌঁছেছি, এটাই আমার পরম প্রাপ্তি।”
আগামীতে কি আবার ছবি প্রযোজনা করবেন? রাজপালের স্পষ্ট উত্তর, “সময়ের আগে কথা বলার চেয়ে কাজ করে দেখানো ভালো। আমি সিনেমার সন্তান। অভিনয় আমার কাছে স্রেফ পেশা নয়, এটা আমার প্যাশন। ফিচার ফিল্ম হোক, ওয়েব সিরিজ বা শর্ট ফিল্ম—অভিনয় আমি করে যাবই।” আপাতত আইনি জটিলতা সরিয়ে রেখে পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতে চান এই হাসির জাদুকর। ভক্তদের আশা, খুব শীঘ্রই আবার বড় পর্দায় ‘ছোটে পণ্ডিত’-এর ম্যাজিক দেখা যাবে।
রিপোর্ট- ভারতী দুবে।
