Mithu Mukherjee: ‘এমন একটা দুঃসংবাদ…!’ মিঠুর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়লেন তাঁর ‘মৌচাক’ নায়ক রঞ্জিত মল্লিক, কী বললেন?
Mithu Mukherjee Passed Away: সেই রূপসী অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে মারণরোগ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। দক্ষিণ কলকাতার পুরনো ভিটে বিক্রি করে বছর কয়েক আগেই মুম্বইয়ের নিভৃতবাস বেছে নিয়েছিলেন।

একসময় যাঁর রূপের জাদু আর সাবলীল অভিনয়ে মাতোয়ারা ছিল গোটা বাংলা, যাঁর চোখের একটিমাত্র ইশারায় তৈরি হতো পরাবাস্তব এক জাদুজগত—সেই রূপসী অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে মারণরোগ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। দক্ষিণ কলকাতার পুরনো ভিটে বিক্রি করে বছর কয়েক আগেই মুম্বইয়ের নিভৃতবাস বেছে নিয়েছিলেন। সেখানে গত এক বছর ধরে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। কিন্তু সমস্ত লড়াই থামিয়ে রবিবার রাতে চিরবিদায় নিলেন সাতের দশকের এই জনপ্রিয় আইকন।
১৯৭৪ সালে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী ছবি ‘মৌচাক’-এ সিতেশ ও নীপার রসায়ন আজও যেকোনও চলচ্চিত্রপ্রেমীর হৃদয়ে অমলিন। পর্দায় সেই চঞ্চল নীপা চরিত্রটিকে যেভাবে জীবন্ত করে তুলেছিলেন মিঠু, তা টলিউডের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়। এর পর ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ছবিতে ফের রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তাঁর জুটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম মাইলফলক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে উত্তম কুমারের মতো মহানায়কের পাশাপাশি সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা ছায়াদেবীর মতো দিকপাল শিল্পীদের সমকক্ষ হয়ে তিনি স্ক্রিন ভাগ করে নিয়েছেন। শুধু বাংলাতেই নয়, হিন্দি থেকে ওড়িয়া চলচ্চিত্রেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী।
সোমবার সকালে এই দুঃসংবাদ সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বিনোদন জগতে। সহ-অভিনেত্রীর আচমকা প্রয়াণে গভীর শোকাহত বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। কান্নাভেজা গলায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “খবরটা শোনার পর থেকে কিছুতেই মনকে বোঝাতে পারছি না। মিঠু আমাদের চেয়ে বয়সে অনেক ছোট ছিল। এমন একটা দুঃসংবাদ এত তাড়াতাড়ি পাব, ভাবতেই পারিনি। সত্যি বলতে, প্রথমে যখন ফোনগুলো আসছিল, বিশ্বাস করতেই চাইনি। এখন তো নানা রকম ভুয়ো খবর রটে, তাই ভেবেছিলাম হয়তো সেরকমই কিছু। কিন্তু পরে যখন চারপাশ থেকে কনফার্ম করা হলো, তখন বুকটা খালি হয়ে গেল। কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেব জানি না।”
পুরনো দিনগুলোর কথা টেনে এনে অভিনেতা আরও বলেন, “চোখের সামনে আমরা দিনের পর দিন একসঙ্গে কাজ করেছি। ‘মৌচাক’-এ উত্তমদার পাশে কিংবা ‘স্বয়ংসিদ্ধা’য় ওর যে অভিনয়, তা ভোলা সম্ভব নয়। সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, ছায়াদেবীর মতো মহীরুহদের সামনে দাঁড়িয়ে যেভাবে নিজস্ব ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে অভিনয় করত, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ওর আত্মার শান্তি কামনা করা ছাড়া আর কিছুই বলার ভাষা নেই আমার। যেখানেই থাকুক, ও যেন শান্তিতে থাকে।”
সাফল্যের মধ্যগগনে থাকতেই পর্দা থেকে উধাও হয়ে যাওয়া এই অভিনেত্রী শেষপর্যন্ত চলেও গেলেন লাইমলাইটের আড়ালে থেকেই। তবে রুপোলি পর্দায় তাঁর রেখে যাওয়া চরিত্রগুলো চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে।
