AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Akshay Kumar: অক্ষয়ের কাছে হেলিকপ্টার যেন ট্যাক্সি! কোন ঘটনা ফাঁস করলেন ফারহা খান?

Farha Khan on Akshay Kumar: এই নিয়মানুবর্তিতা যে মাঝে মাঝে ঠিক কতটা রাজকীয় রূপ নিত, তারই এক মজাদার খতিয়ান ফাঁস করলেন পরিচালক ফারহা খান। সম্প্রতি এক আড্ডায় তিনি জানান, ২০১০ সালের ‘তিস মার খান’ ছবির শুটিংয়ের সময় অক্ষয় নাকি প্রতিদিন হেলিকপ্টারে চেপে সেটে আসতেন! আর তা সত্ত্বেও সেটের বাকিদের চেয়ে তিনিই সবার আগে পৌঁছাতেন।

Akshay Kumar: অক্ষয়ের কাছে হেলিকপ্টার যেন ট্যাক্সি! কোন ঘটনা ফাঁস করলেন ফারহা খান?
| Updated on: Jun 17, 2026 | 1:28 PM
Share

বি-টাউনে সময়ানুবর্তিতা আর ডিসিপ্লিনের কথা উঠলে সবার আগে যার নাম মাথায় আসে, তিনি অক্ষয় কুমার। তবে খিলাড়ি কুমারের এই নিয়মানুবর্তিতা যে মাঝে মাঝে ঠিক কতটা রাজকীয় রূপ নিত, তারই এক মজাদার খতিয়ান ফাঁস করলেন পরিচালক ফারহা খান। সম্প্রতি এক আড্ডায় তিনি জানান, ২০১০ সালের ‘তিস মার খান’ ছবির শুটিংয়ের সময় অক্ষয় নাকি প্রতিদিন হেলিকপ্টারে চেপে সেটে আসতেন! আর তা সত্ত্বেও সেটের বাকিদের চেয়ে তিনিই সবার আগে পৌঁছাতেন।

আসন্ন ছবি ‘ভূত বাংলা’-র প্রচারের খাতিরে সম্প্রতি এক ছাদের তলায় এসেছিলেন অক্ষয় কুমার, পরিচালক প্রিয়দর্শন, রাজপাল যাদব এবং ফরাহ খান। সেখানেই পুরনো স্মৃতির ঝাঁপি উপুড় করেন ফরাহ।

ফারহা জানান, ‘তিস মার খান’-এর একটি বড় অংশের শুটিং চলছিল মুম্বই থেকে বেশ কিছুটা দূরে, মালশেজ ঘাটে। প্রতিদিন সকাল ৮টায় ক্যামেরা চালু হওয়ার কথা। অত ভোরে যাতায়াত অসম্ভব বলে ইউনিটের প্রায় সবাই শুটিং স্পটের আশেপাশেই আস্তানা গেড়েছিলেন। ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু অক্ষয়। তিনি প্রতিদিন প্যাক-আপের পর মুম্বইয়ের বাড়িতে ফিরতেন এবং পরের দিন ঠিক সকাল পৌনে আটটায় স্পটে হাজির হয়ে যেতেন।

এই রুটিন শুনে সহ-অভিনেতা রাজপাল যাদব যখন তাজ্জব হয়ে যান, তখনই ফারহা ও অক্ষয় তাঁকে ধাঁধা ছুঁড়ে দেন— “বল তো কী করে সম্ভব হত?” রাজপাল মাথা চুলকোতেই খিলাড়ি কুমারের সগর্ব স্বীকারোক্তি, “আমি তো রোজ হেলিকপ্টার নিয়ে যাতায়াত করতাম!”

বন্ধুর এই কাণ্ড মনে করে হেসে ওঠেন ফারহা। রসিকতা করে বলেন, “জীবনে প্রথমবার দেখলাম কোনো অভিনেতা হেলিকপ্টারকে পাড়ার ট্যাক্সির মতো ব্যবহার করছে! তবে হ্যাঁ, ওর নিষ্ঠা মানতেই হবে। এত কিছুর পরেও এক দিনও ও লেট করেনি।”

পাল্টা দিতে ছাড়েননি অক্ষয়ও। হেসে বলেন, “তাতে কার কী? আমি তো ছবির প্রযোজকও ছিলাম।” ফরাহও তখন দমবার পাত্রী নন, ফোড়ন কাটেন, “প্রযোজক তো আমিও ছিলাম! আর ও আমার সব টাকা এভাবে উড়িয়ে দিল।” যা শুনে অক্ষয়ের পাল্টা দাবি, “আমি টাকা উড়িয়েছি? এই ছবি থেকে সবচেয়ে বেশি লাভ তো তুমিই কামিয়েছ!”

ইতিহাস বলছে, ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তিস মার খান’ বক্স অফিসে প্রায় ৮৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। বাণিজ্যিকভাবে ছবিটিকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা না গেলেও, সমালোচক মহলে এটি তীব্র কটাক্ষের শিকার হয়। সেই সময় ছবির ওপর ধেয়ে আসা ট্রোলিং ফারহা খানকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

পরবর্তীকালে ফরাহ অকপটে স্বীকারও করেছিলেন যে, ওই ছবির পর মানুষ তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দেয়। সিনেমা জগতে সাফল্য ও ব্যর্থতা যে কতটা আপেক্ষিক, তা ‘তিস মার খান’ তাঁকে শিখিয়েছিল।

তবে সময়ের চাকা ঘুরেছে। মুক্তির দেড় দশক পর আজ ‘তিস মার খান’ সামাজিক মাধ্যমে ট্রোলড হওয়ার বদলে বহু দর্শকের কাছে ‘কাল্ট কমেডি’র তকমা পেয়েছে। আর ছবিটিকে ঘিরে অক্ষয়-ফারহার এই হেলিকপ্টার-কাহিনি বলিউড প্রেমীদের বিনোদনে নতুন খোরাক জোগাল, তা বলাই বাহুল্য।

Follow Us