
বলিউডের প্লে-ব্যাক দুনিয়ায় এখন একটাই বড় প্রশ্ন— অরিজিৎ সিং কি সত্যিই তবে বিদায় নিচ্ছেন? গত জানুয়ারিতে সোশাল মিডিয়ায় অরিজিতের সেই একটি পোস্ট সঙ্গীত দুনিয়ায় কার্যত ভূমিকম্প এনে দিয়েছিল। এখনও তাঁর এই সিদ্ধান্ত মন থেকে মানতে পারেনি তাঁর অনেক ভক্তরা। আর এবার সেই আগুনেই যেন ঘি ঢাললেন সুরকার আমল মালিক। অরিজিতের এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার পাশাপাশি নিজের ভাই আরমান মালিকের লড়াই নিয়েও মুখ খুললেন আমল। আমলের স্পষ্ট কথা, যখন অরিজিৎ সিংয়ের দাপটে গোটা ইন্ডাস্ট্রি থরথর করে কাঁপছে, তখন তাঁর ভাইও কিন্তু চোখে চোখ রেখে পাল্লা দিয়েছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমাল জানিয়েছেন, অরিজিৎ হুট করে এই সিদ্ধান্ত নেননি। গত কয়েক বছর ধরেই তিনি প্লে-ব্যাক থেকে দূরে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন। তবে ভক্তদের আশ্বস্ত করে আমল বলেন, এখনই মন খারাপ করার কিছু নেই। কারণ, গত চার বছরে রেকর্ড করা অরিজিতের অন্তত ১০০টি গান এখনও মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক সিনেমার কাজ আটকে থাকায় এই গানগুলো এখনও রিলিজ করেনি। অর্থাৎ, রূপোলি পর্দা থেকে সরে দাঁড়ালেও অরিজিতের কণ্ঠ আগামী কয়েক বছর আমাদের সঙ্গেই থাকছে।
কিন্তু কেন এই সরে যাওয়া? আমলের মতে, সৃজনশীলতার খিদে থেকেই অরিজিৎ এই পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি এখন নিজেকে আরও বড় ক্যানভাসে দেখতে চাইছেন। অনুষ্কা শঙ্করের মতো বিশ্ববরেণ্য শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করা বা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে মন দেওয়া- অরিজিৎ আসলে নিজেকে জাকির হোসেইনের মতো এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছেন। যেখানে সিনেমার বাঁধা ধরা ছকের বাইরেও গানের একটা নিজস্ব জগত থাকবে।
সেই সাক্ষাতকারেই আরমান মালিকের প্রসঙ্গতেও কথা বলেছেন আমল। অরিজিৎ সিং যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় বলিউডে নিজের মাটি শক্ত করেছেন আরমান। আমাল গর্বের সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন সেই দিনগুলোর কথা। তিনি বললেন, “যখন অরিজিৎ ‘চান্না মেরেয়া’ গাইছেন, তখন আরমানের গলায় ছিল ‘কৌন তুঝে’। যখন অরিজিতের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ চার্টবাস্টার, তখন আরমান পাল্লা দিচ্ছেন ‘জব তক’ দিয়ে।” বয়সে অরিজিতের চেয়ে প্রায় এক দশকের ছোট হওয়া সত্ত্বেও আরমান যে দেশের এক নম্বর গায়কের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিয়েছেন, সেটাই এখন আমালের কাছে বড় প্রাপ্তি।”
আসলে অরিজিৎ সিংয়ের এই সরে দাঁড়ানোটা কোনও ‘শেষ’ নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু। আমল মালিক মনে করেন, যে শিল্পীরা সিনেমার গানে একঘেয়েমি অনুভব করছেন, তাঁদের অরিজিতের দেখানো পথেই হাঁটা উচিত। কারণ, গান কেবল সিনেমার ফ্রেমের মধ্যে আটকে থাকার জিনিস নয়।