জয়া নয়, কলকাতার বুকেই ছিল অমিতাভের প্রথম প্রেম! কে এই রহস্যময়ী ‘মায়া’?
হানিফ জাভেরির বর্ণনা অনুযায়ী, অমিতাভ আর মায়ার সেই নিভৃত প্রেমের সাক্ষী হয়ে আছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, প্রিন্সেপ ঘাট আর হাওড়া ব্রিজ। মায়ার হাত ধরে কলকাতার ময়দানে ঘুরে বেড়াতেন হবু শাহেনশাহ। শোনা যায়, আজও কলকাতায় এলে গ্র্যান্ড হোটেলের ময়দানমুখী ঘর অমিতাভের পছন্দের তালিকায় থাকে, যার নেপথ্যে হয়তো লুকিয়ে আছে সেই হারানো দিনগুলোর নস্ট্যালজিয়া।

অমিতাভ বচ্চন ও কলকাতার রসায়ন দীর্ঘ কয়েক দশকের। কিন্তু সেই রসায়নে যে এক ব্রিটিশ বিমানসেবিকার নাম জড়িয়ে ছিল, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি বলিউড বিশেষজ্ঞ ও লেখক হানিফ জাভেরির লেখায় উঠে এসেছে অমিতাভের জীবনের প্রথম অনুরাগের গল্প। সেই প্রেমিকার নাম ছিল ‘মায়া’।
সময়টা ষাটের দশকের শেষভাগ। কলকাতায় তখন সাধারণ এক চাকুরিজীবী অমিতাভ। সেই সময় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানসেবিকা মায়ার সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। মিষ্টভাষী মায়ার প্রেমে পড়তে সময় লাগেনি দীর্ঘদেহী অমিতাভের। হানিফ জাভেরির বর্ণনা অনুযায়ী, অমিতাভ আর মায়ার সেই নিভৃত প্রেমের সাক্ষী হয়ে আছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, প্রিন্সেপ ঘাট আর হাওড়া ব্রিজ। মায়ার হাত ধরে কলকাতার ময়দানে ঘুরে বেড়াতেন হবু শাহেনশাহ। শোনা যায়, আজও কলকাতায় এলে গ্র্যান্ড হোটেলের ময়দানমুখী ঘর অমিতাভের পছন্দের তালিকায় থাকে, যার নেপথ্যে হয়তো লুকিয়ে আছে সেই হারানো দিনগুলোর নস্ট্যালজিয়া।
অমিতাভের কেরিয়ার যখন মোড় নিতে শুরু করে এবং তিনি ‘সাত হিন্দুস্তানি’ ছবির অফার পান, তখন মায়াও তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন। মুম্বই যাওয়ার পর অমিতাভ তাঁর মামা নীরুর বাংলোতে থাকতেন এবং মায়া সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। জল্পনা ছিল, দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু বাগড়া দেয় পরিবার। অমিতাভের মামা এই সম্পর্কের কথা তাঁর মা তেজি বচ্চনকে জানান। বচ্চন পরিবারের আভিজাত্য ও জীবনশৈলীর সঙ্গে মায়ার ‘লাইফস্টাইল’ খাপ খাবে না— এই যুক্তিতে অমিতাভের কাছের মানুষরা তাঁকে পিছু হটার পরামর্শ দেন।
পরিবারের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় সেই সম্পর্ক। কোনও এক অজানা অভিমানে অমিতাভের জীবন থেকে নিঃশব্দে বিদায় নেন মায়া। এরপর সময় বয়ে গিয়েছে, অমিতাভ বচ্চন হয়ে উঠেছেন বিশ্ববন্দিত মহাতারকা। অন্যদিকে সেই মায়া আজ কোথায়, কেমন আছেন, তা নিয়ে কোনও খোঁজ মেলেনি আর। অমিতাভের প্রথম প্রেমের সেই অধ্যায় আজও কলকাতার বাতাসের মতো রহস্যময় আর বিষণ্ণ হয়ে রয়ে গিয়েছে।
