
“এটা একটা মিসক্যারেজ।” কথাটা বলেই থেমে গিয়েছিলেন অনুরাগ কাশ্যপ। আর এই মিসকারেজের সময়টাই পাল্টে দেয় পরিচালক অভিনেতার জীবন। শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকী এই সময় রিহ্যাবেও যেতে হয় তাঁকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কঠিন অধ্যায়ের কথা ভাগ করে নিয়েছেন অনুরাগ। কী ঘটেছিল অভিনেতার সঙ্গে?
তিনি বলছিলেন তাঁর স্বপ্নের কাজ ‘ম্যাক্সিমাম সিটি’-র কথা। বহু বছরের প্রস্তুতি, ৯০০ পাতার বেশি হাতে লেখা চিত্রনাট্য, অসংখ্য মিটিং সব শেষে যখন কাজটাই বন্ধ হয়ে গেল, তখন সেটাকে আর সাধারণভাবে নিতে পারেননি পরিচালক। লেখক সুকেতু মেহতার বহুল আলোচিত বই ‘ম্যাক্সিমাম সিটি’ অবলম্বনে সিরিজ বানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন অনুরাগ। শুরুতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স প্রজেক্টে সম্মতি দিয়েছিল বলেই দাবি তাঁর। এরপর দেড় বছর কেটে যায়, কেউ স্পষ্ট করে জানায় না কাজটা আদতেও এগোবে কিনা।
এই অনিশ্চয়তাই ভেতর থেকে বিপর্যস্ত করে দেয় অভিনেতাকে। অনুরাগ বলেন, তিনি সংস্থার টিমকে বই পড়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু প্রায় কেউ পড়েননি। এদিকে তাঁর ওয়েব সিরিজ ‘তাণ্ডব’ নিয়ে বিতর্কের পর দেশজুড়ে যে চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাবও পড়েছিল তাঁর বিভিন্ন প্রজেক্টে। অনুরাগের মনে হয়েছে, সেই আবহই হয়ত তাঁর কাজের পথ আটকে দেয়। যদিও সংস্থার তরফে নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি।
বিপর্যস্ত অনুরাগ থেরাপিতে গিয়ে বুঝতে পারেন, তিনি আসলে শোকের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। “ওটা আমার সন্তানের মতো ছিল,” বলেন তিনি। সেই কারণেই তাঁর মুখে বেরিয়ে আসে “মিসক্যারেজ” শব্দটি। কিন্তু মানসিক ধাক্কা সেখানেই থামেনি। এই সময়েই তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। ওষুধ চলছিল, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয়েছিল। হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যায়, স্টেরয়েড নিতে হয়। অভিনেতা জানান যে তাঁর মন তখন স্থির ছিল না। মদ্যপান বেড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলাতে রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি হন তিনি।
তবে সেই অন্ধকার সময় থেকে তাঁর কাজই আবার তাঁকে টেনে তোলে। এক পরিচালক বন্ধুর প্রস্তাবে অভিনয়ে ফেরেন। সেই অভিজ্ঞতাই নাকি তাঁকে ঘরবন্দি অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।