ক্যানসারের মরণ কামড়, শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা! সেই অবস্থাতেও স্ত্রীর সেবা করতেন ইরফান
মন্তব্য বক্সে লিখেছেন, “আমার হৃদয়ের টুকরো বাবিল।” নেটিজেনদের চোখেও জল। কেউ লিখেছেন, “ইরফান স্যার এই দুনিয়ার মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্বর্গীয়।” কেউ আবার লিখেছেন, “এই ছবিগুলোতে যতটা কষ্ট আছে, ততটাই ভালেবাসা রয়েছে।”

মারণ রোগ বাসা বেঁধেছিল শরীরে। ক্যানসারের সেই অসহ্য যন্ত্রণায় যখন ছটফট করছেন অভিনেতা, তখনও তাঁর সমস্ত মন পড়ে থাকত জীবনসঙ্গিনীর দিকে। নিজে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, অথচ স্ত্রীর সামান্য অসুস্থতাও তাঁকে বিচলিত করে তুলত। কথা হচ্ছে বলিউডের অন্যতম নক্ষত্র প্রয়াত ইরফান খানকে নিয়ে। তাঁর ছেলে বাবিল খান সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে নিলেন এক অদেখা যন্ত্রণার কিন্তু ভীষণ সুন্দর ভালোবাসার গল্প। যা পড়ে চোখে জল নেটপাড়ার।
২০১৮ সালে নিউরোএন্ডোক্রাইন ক্যানসার ধরা পড়েছিল ইরফানের। তারপর শুরু হয় দীর্ঘ লড়াই। বাবিল জানাচ্ছেন, সেই কঠিন সময়ে বাবাকে আগলে রেখেছিলেন মা সুতপা সিকদার। দিন-রাত এক করে অসুস্থ স্বামীর সেবা করতেন তিনি। ছোটাছুটি করতে গিয়ে সুতপার পায়ে কড়া পড়ে গিয়েছিল। হাঁটতে অসুবিধা হত তাঁর।
নিজের শরীর ভাঙছে প্রতিদিন, কিন্তু স্ত্রীর এই কষ্ট সহ্য করতে পারতেন না ইরফান। বাবিল স্মৃতি হাতড়ে লিখলেন, “বাবা তখন ক্যানসারের সবচেয়ে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। সেই অবস্থাতেই নিজের মাথায় টর্চের মতো করে ফোন বেঁধে নিতেন তিনি। তারপর মায়ের পায়ের সেই কড়াগুলো খুব যত্ন করে পরিষ্কার করে দিতেন।”
View this post on Instagram
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সোফায় বসে রয়েছেন ইরফান। মাথায় কাপড়ের ব্যান্ড দিয়ে ফোন আটকানো, যা আলোর উৎস হিসেবে কাজ করছে। আর পরম মমতায় স্ত্রী সুতপার পায়ের পরিচর্যা করছেন তিনি। বাবিলের ভাষায়, এই দৃশ্য কেবল চিকিৎসার নয়, বরং ভালেবাসার গল্প এই পোস্ট দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি সুতপা সিকদারও। তিনি মন্তব্য বক্সে লিখেছেন, “আমার হৃদয়ের টুকরো বাবিল।” নেটিজেনদের চোখেও জল। কেউ লিখেছেন, “ইরফান স্যার এই দুনিয়ার মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্বর্গীয়।” কেউ আবার লিখেছেন, “এই ছবিগুলোতে যতটা কষ্ট আছে, ততটাই ভালেবাসা রয়েছে।”
২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল চিরতরে বিদায় নেন ইরফান খান। কিন্তু তাঁর মানবিকতা আর জীবনবোধ আজও বেঁচে আছে তাঁর পরিবারের গল্পে। বাবিল খান নিজেও এখন বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করছেন। ‘কালা’ (Qala) থেকে শুরু করে ‘দ্য রেলওয়ে ম্যান’— অভিনয়ের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করেছেন বাবার যোগ্য উত্তরসূরি তিনি।
