Delimitation & Women Reservation Bill: আসন পুনর্বিন্যাসে সত্যি কি কিছু রাজ্য বঞ্চিত হবে? বিরোধীদের কী বক্তব্য, পাল্টা যুক্তিই বা কী দিচ্ছে কেন্দ্র?
Seat Redistribution in Lok Sabha: মহিলা সংরক্ষণ নিয়েও সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, যদি সরকার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে এতটাই আন্তরিক হয়, তাহলে বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩ আসনের উপরেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ লাগু করুক।

নয়া দিল্লি: ভোটাভুটি হওয়ার আগেই আইনে পরিণত হল মহিলা সংরক্ষণ বিল। সংশোধনী বিল নয়, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল(Women Reservation Bill)-কেই আইনে পরিণত করল কেন্দ্রীয় সরকার। গতকাল, ১৬ এপ্রিল থেকে এই আইন কার্যকর হয়েছে। এবার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে শাসক ও বিরোধী দল কী অবস্থান নিচ্ছে?
প্রস্তাবিত মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে বিরোধীদের অবস্থান-
পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর নির্বাচন চলাকালীন কেন তাড়াহুড়ো করে নিয়ে আসা হল এই বিল? সংসদে প্রশ্ন তুলবে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং নিজেদের সুবিধা মতো দেশের নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তন করতে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের প্রশ্ন, ২০২৬-২৭ এর জনগণনার নতুন পরিসংখ্যানকে ভিত্তি করে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস কেন করা হচ্ছে না?
অন্যদিকে, মহিলা সংরক্ষণ নিয়েও সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, যদি সরকার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে এতটাই আন্তরিক হয়, তাহলে বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩ আসনের উপরেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ লাগু করুক।
কংগ্রেসের দাবি, জনগণনার আগে জাতি জনগণনা করতে হবে। সমাজবাদী পার্টির দাবি, ৩৩ শতাংশ মহিলা আসন সংরক্ষণের মধ্যে ওবিসি এবং মুসলিম মহিলাদের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণী রাজ্যের দলগুলির বক্তব্য, কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বিল অনুযায়ী, এই বিল আইনে পরিণত হলে, সংসদে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিরর প্রতিনিধিত্ব কমবে।
সরকার পক্ষের অবস্থান-
সংসদে দক্ষিণের রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব কমার আশঙ্কা অমূলক। বক্তব্য কেন্দ্রের। ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির ফর্মুলার মাধ্যমে বর্তমান আসনের সমানুপাতে প্রত্যেক রাজ্যের আসন বাড়বে। অমিত শাহ জানিয়েছেন, দক্ষিণের রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা ১২৯ থেকে বেড়ে হবে ১৯৫। আসন পুনর্ববিন্যাস প্রক্রিয়া সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে, এই অভিযোগও খারিজ করেছেন অমিত শাহ। আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে পূর্ববর্তী যে আইন রয়েছে, সেই আইন মেনেই নতুন বিলের খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্রের বক্তব্য, ২০২৩ সালে বিরোধীরা বলেছিল, এখনই কেন এই মহিলা সংরক্ষণ বিল লাগু করা হচ্ছে না? ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই সংরক্ষণ লাগুক করা যায়নি, কারণ সময় ছিল না। তাহলে এখন আপত্তি কেন? কেন্দ্রের যুক্তি, এখন বিল পাস হলেও ২০২৯ সালের আগে মহিলা সংরক্ষণ লাগু হবে না। আসন্ন উত্তর প্রদেশ এবং অন্যান্য বিধানসভা নির্বাচন পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী হবে। এই বিল এখন আনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি সরকারের।
কংগ্রেসের জনগণনার দাবি নিয়ে পাল্টা যুক্তি দিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই সরকার জাতি জনগণনার নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে। এখন প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা করা হচ্ছে। বাড়ি গণনার সঙ্গে জাতির কোনও সম্পর্ক নেই। এরপর জনগণনা শুরু হবে। যার সঙ্গে জাতি জনগণনা সংযুক্ত।
