‘নারীর সম্মান বাঁচাতে হত্যা কি অপরাধ?’ বাস্তবের কঠিন ছাপ এবার ধারাবাহিকে
Bengali Serial: সম্প্রতিতে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার ছাপ দেখা গিয়েছে ধারাবাহিকে। নারীরা য়খন রাত দখলের লড়াইয়ে সামিল, ঠিক সেই একই সময় নারী সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল ধারাবাহিকের চরিত্র ডালি।

বর্তমানে উত্তপ্ত গোটা বাংলা, গোটা দেশ। তিলোত্তমার নৃশংস মৃত্যু দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারছেন না কেউ। খাস কলকাতার বুকে কীভাবে ঘটে যেতে পারে এমন ঘটনা? এও কি সম্ভব! আরজি কর কাণ্ডে একটাই প্রশ্ন বারবার সকলের মুখে উঠে আসছে, নারীরা কী তবে কোথাও সুরক্ষিত নন! রাত দিন, শহর গ্রাম, কর্মস্থল কিংবা স্কুল কলেজ, কোথায় নিরাপদ বোধ করবে তবে মেয়েরা? এই পরিস্থিতিতে নিজেকে বাঁচাতে যদি কোনও মেয়ে পাল্টা আক্রমণ করে বসে, তবে তার দায় কার? বরাবরই কঠিন বাস্তব জায়গা করে নিয়েছে সিনেমা-ধারাবাহিকের পর্দায়। বড় বড় তদন্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই বহু ছবি দেখেছে ভারত। কিংবা সম্প্রতিতে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার ছাপ দেখা গিয়েছে ধারাবাহিকে। নারীরা য়খন রাত দখলের লড়াইয়ে সামিল, ঠিক সেই একই সময় নারী সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল ধারাবাহিকের চরিত্র ডালি।
ঠিক বাস্তবে যেমন প্রশ্ন উঠছে কোথায় নারী নিরাপত্তা? সেই একই প্রশ্ন এবার দর্শকদের চোখে আঙুল দিয়ে করে বসল ধারাবাহিকের চরিত্র ডালি। বরাবরই বাস্তবের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখে ধারাবাহিককে গল্প বুঁনতে দেখা গিয়েছে। এবারও নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তাই ‘আকাশ কুসুম’ ধারাবাহিকের অংশ হয়ে উঠল। একটি মেয়েকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে অপরাধীকে খুন করে পর্দার নায়িকা! প্রেক্ষাপটে কী দেখা যায়?
‘আকাশ কুসুম’-এর গল্পে রেহান, রাজা, অমৃতা, অরিত্র সকলে মিলে এক বাড়িতে পার্টি করে। এরই মাঝে আচমকাই মদ্যপ অবস্থায় রেহান ফাঁকা ঘরে অমৃতার ওপর হামলা করে বসে। ঠিক সেই সময়ই ঘটনা স্থলে পৌঁছে যায় ডালি, অমৃতাকে সে বাঁচায়। তবে তাকে বাঁচাতে গিয়ে রেহানকে আঘাত করে বসে ডালি। সেই সময়ই পুলিশ এসে পড়ে। বাড়ির বাকিরাও তখন সবাই ঘরে চলে আসে। বোনের এই অবস্থা দেখে রেহানের ওপর রেগে ফেটে পড়ে। ডালি স্বীকার করে নেয় অমৃতাকে বাঁচাতে সে রাজাকে মেরেছে! ফলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ডালিকে। ডালি যায় জেল হেফাজতে। আর সেই পরিস্থিতিতেই কঠিন প্রশ্ন ডালি তুলে ধরে প্রশাসনের সামনে, সমাজের সামনে–‘একটি মেয়ের সম্মান রক্ষার্থে কেও কাউকে হত্যা করলে সেটা কি অপরাধ নাকি প্রতিবাদ?’
সান বাংলার ধারাবাহিক ‘আকাশ কুসুম’ এখন এই প্লটেই গল্প বুঁনেছে। যেখানে নারী সমাজের হয়ে সরব হতে দেখা যায় ধারাবাহিকের চরিত্র ডালিকেও। বাস্তবে অধিকাংশ সময়ই এই ধরনের অপরাধ অন্ধকারেই হারিয়েছে, বিচার পান হাতে গুনে কয়েকজন। ডালির গল্প কি সেই দিকেই এগোবে? নাকি সকলের মনোবল বাড়িয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারবে, সেটাই এখন দেখার।
