Bipasha Basu: ৪৭ বছরের বিপাশার হাঁটু ৬৫ বছরের বৃদ্ধার মতো! কোন রোগে আক্রান্ত বিপাশা? এখন আছেন কেমন?
Bipasha Basu Knee Health: পেশাদার কোনও ট্রেইনারের পরামর্শ ছাড়াই দ্রুত মেদ ঝরাতে রাস্তায় ও ট্রেডমিলে দৌড়ানো শুরু করেন বিপাশা। একই সঙ্গে শুরু করেন অনিয়মিত ক্র্যাশ ডায়েট। ভুল পদ্ধতির কারণে মারাত্মক খেসারত দিতে হয় তাকে। হঠাৎ করেই শুরু হয় হাঁটুতে অসহ্য যন্ত্রণা।

কয়েক বছর আগে এক সাংবাদিক তাঁকে ‘মোটা’ বলে খোঁচা দেওয়ায় ওজন কমানোর কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিপাশা— এই খবর অনেকেরই জানা। তবে বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসুর এই ফিটনেস-প্রীতির পেছনে রয়েছে আরও এক গোপন ও তিক্ত অভিজ্ঞতা। ২০০৫ সাল থেকেই হাঁটু ক্ষয়ের মারাত্মক রোগ ‘অস্টিওআর্থারাইটিস’ (Osteoarthritis)-এ ভুগছেন বলিউডের এই বঙ্গতনয়া।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন বিপাশা। ‘নো এন্ট্রি’ ছবির শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি বলেন, “আমার ওজন অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল। মোটা যাতে না দেখায়, সে জন্য পোশাক দিয়ে শরীর ঢেকে রাখার চেষ্টা করতাম। তখনই উপলব্ধি করি যে ওজন কমানো জরুরি।”
পেশাদার কোনও ট্রেইনারের পরামর্শ ছাড়াই দ্রুত মেদ ঝরাতে রাস্তায় ও ট্রেডমিলে দৌড়ানো শুরু করেন বিপাশা। একই সঙ্গে শুরু করেন অনিয়মিত ক্র্যাশ ডায়েট। ভুল পদ্ধতির কারণে মারাত্মক খেসারত দিতে হয় তাকে। হঠাৎ করেই শুরু হয় হাঁটুতে অসহ্য যন্ত্রণা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে সোজা হয়ে দাঁড়ানোও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। সহকর্মী হৃতিক রোশন ও শাহরুখ খানের পরামর্শে নামজাদা চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন তিনি।
এমআরআই (MRI) রিপোর্টের ফলাফল দেখে চমকে যান চিকিৎসকরা। বিপাশা বলেন, “রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা স্তম্ভিত হয়ে যান। তাঁরা জানান, আমার হাঁটুর অবস্থা একজন ৬৫ বছরের বৃদ্ধের মতো জীর্ণ হয়ে গিয়েছে।” এত অল্প বয়সে এমন বিরল ব্যাধি দেখে চিকিৎসকরাও চিন্তিত হয়ে পড়েন। একজন চিকিৎসক তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর কখনও অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করতে পারবেন না, এমনকী, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও সম্ভব হবে না। আরেক চিকিৎসক তাঁকে বেড রেস্টের পরামর্শ দেন।
বিপাশার কথায়, “সংবাদটি শোনার পর টানা তিন দিন ও তিন রাত কেঁদেছিলাম। বাবা-মা কাছে ছিলেন না, পুরো ভেঙে পড়েছিলাম।” তবে চতুর্থ দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন অভিনেত্রী। নিজেকে বোঝান— লড়াই করেই বাঁচতে হবে।
এরপর চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা বইপত্র ও ইন্টারনেট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন বিপাশা। পরামর্শ নেন ক্রীড়াবিদ মহেন্দ্র সিং ধোনি ও যুবরাজ সিংয়ের। পরবর্তীতে স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট হিমাংশি বসুর অধীনে তাঁর সুচিকিৎসা শুরু হয়। ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশে হাঁটুর ওপর চাপ কমাতে উরু ও নিতম্বের পেশি মজবুত করার বিশেষ ‘ওয়েট ট্রেনিং’ শুরু করেন তিনি। বন্ধ করে দেওয়া হয় হাই হিল পরা ও সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা।
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এখন অনেকটাই সুস্থ বিপাশা। তবে অস্টিওআর্থারাইটিসের সঙ্গে এখনও প্রতিদিন লড়াই করতে হয় তাঁকে। তিনি জানান, এই থেরাপি তাঁকে সারা জীবনই চালিয়ে যেতে হবে।
কঠিন এই ব্যাধিকে হারিয়ে নতুন করে জীবনে ফেরার অনুভূতি জানিয়ে হাসিমুখে বিপাশা বলেন, “এমন অভিজ্ঞতা মানুষকে মানসিকভাবে ভীষণ শক্ত করে তোলে। আমি এখন শারীরিকভাবেও শক্তিশালী। চাইলে একজন ফুটবলারের মতো লাথিও মারতে পারি!” তিনি আরও যোগ করেন, “শুধু সুন্দর দেখালেই চলে না, নিজের শরীরকে সম্মান করাটাও সমান জরুরি।”
