টাকা ফেরতের জন্য কান্নাকাটি! রাজপালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ব্যবসায়ীর
এক সাক্ষাৎকারে আগরওয়াল জানান, ২০১২ সালে রাজপালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় প্রাক্তন সাংসদ মিথিলেশ কুমার কাথেরিয়ার মাধ্যমে। সেই সময় অভিনেতা তাঁর ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’র জন্য আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন। ছবির কাজ যখন প্রায় শেষ, তখন রাজপাল বলেন সামান্য অর্থের অভাবে পুরো প্রজেক্ট ভেস্তে যেতে পারে তাই সাহায্যের আবেদন করেন রাজপাল।

৯ কোটি টাকার দেনা মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেয়ে তিহার জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন অভিনেতা রাজপাল যাদব। আর ঠিক সেই সময়ই সামনে এল ব্যবসায়ী মাধব গোপাল আগরওয়ালের বিস্ফোরক অভিযোগ, রাজপাল জেল থেকে বেরোনোর পর তিনি জানান, “আমি ওঁর বাড়িতে গিয়ে শিশুর মতো কেঁদেছি, শুধু নিজের টাকাটা ফেরত পাওয়ার জন্য।
এক সাক্ষাৎকারে আগরওয়াল জানান, ২০১২ সালে রাজপালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় প্রাক্তন সাংসদ মিথিলেশ কুমার কাথেরিয়ার মাধ্যমে। সেই সময় অভিনেতা তাঁর ছবি ‘অতা পাতা লাপাতা’র জন্য আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন। ছবির কাজ যখন প্রায় শেষ, তখন রাজপাল বলেন সামান্য অর্থের অভাবে পুরো প্রজেক্ট ভেস্তে যেতে পারে তাই সাহায্যের আবেদন করেন রাজপাল।
আগরওয়ালের দাবি, তিনি ৫ কোটি টাকা দেন, তবে তা বিনিয়োগ হিসেবে নয়, স্পষ্টভাবে ঋণ হিসেবে। লিখিত চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ছবির ব্যবসা, সেন্সর সার্টিফিকেট বা মুক্তির সাফল্যের সঙ্গে টাকা ফেরতের কোনও সম্পর্ক থাকবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্ক ফেরত দেওয়ার কথা ছিল এবং তার গ্যারান্টিও দেন অভিনেতা।
কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরেনি। গোপালের কথায় “আমি নিজের ব্যবসার পাশাপাশি অন্যের কাছ থেকেও ধার নিয়েছিলাম। পরে যখন টাকা ফেরতের কথা তুলতাম, তখন এড়িয়ে যেতেন রাজপাল। একদিন তো ওঁর বাড়িতে গিয়ে শিশুর মতো কান্নাকাটি করি”। তাঁর আরও অভিযোগ, পরে আবার টাকা দিতে অস্বীকার করলে রাজপালের স্ত্রী রাধা তাঁকে একাধিক আবেগঘন বার্তা পাঠান। সেই আবেগে পড়েই তিনি আবার সাহায্য করতে রাজি হন।
পরিস্থিতি ঘোরালো হয় যখন ছবির সংগীত প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। তখন আগরওয়াল বুঝতে পারেন, চুক্তি অনুযায়ী আয়ের অধিকার তাঁর হাতে আসছে না। তখনই আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি এবং সাময়িকভাবে ছবির মুক্তিতে স্থগিতাদেশ পড়ে।
পরে রাজপালের আশ্বাসে সেই স্থগিতাদেশ উঠে যায়। কিন্তু বক্স অফিসে ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে। ২০১৩ সালে আদালতের মধ্যস্থতায় ১০.৪০ কোটি টাকায় সমঝোতা হয়। অভিযোগ, সেই সমঝোতা অনুযায়ী দেওয়া একাধিক চেকই বাউন্স করে। এরপর চেক বাউন্স ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে মামলা চলতে থাকে বছরের পর বছর।
শেষ পর্যন্ত চলতি বছরে রাজপাল যাদবকে জেলে যেতে হয়। তবে দিল্লি হাই কোর্ট অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করায় আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন অভিনেতা। অন্যদিকে আগরওয়ালের বক্তব্য স্পষ্ট, “আমি কারও পতন চাই না। শুধু ন্যায্যভাবে আমার পরিশ্রমের টাকা ফেরত চাই।” রাজপাল কি পারবেন ঋণ শোধ করে আবার পুরনো ছন্দে ফিরতে? সেই উত্তর সময়ই বলবে।
