Mekhliganj: পোড়া লাশের গন্ধে অতিষ্ঠ গ্রামের পর গ্রাম, সমস্যা মিটবে কবে? উত্তর নেই কারও কাছেই
North Bengal: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে বৈদ্যুতিক চুল্লির ধোঁয়া থেকে রাঙাপানি কলোনি, বারুইপাড়া ও বালাডাঙা এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে এই ৩ এলাকার বয়স্ক ও স্কুল পড়ুয়া শিশুদের স্বাস্থ্যের সমস্যা হচ্ছে। শুধু তাই নয় পড়াশোনার ব্যাঘাতও ঘটছে। শশ্মানে মৃতদেহ পোড়ানো দুর্গন্ধের জন্য ঘর থেকে বাইরে বের হওয়ার যায় না।

জলপাইগুড়ি: পোড়া লাশের গন্ধে অতিষ্ঠ গ্রামের মানুষ। মুখে গামছা বেঁধে কাজকর্ম। প্রায় দু’বছর ধরে অসহনীয় পরিস্থিতিতে আছেন মেখলিগঞ্জ বিধানসভার হলদিবাড়ি ব্লকের ৩ টি গ্রামের বাসিন্দারা। রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর। এই ইস্যুতে তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভার বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগে সরব বিজেপি।
কোচবিহার জেলায় দুটি বৈদ্যুতিক চুল্লি রয়েছে। একটি রয়েছে কোচবিহার শহরে, অন্যটি মেখলিগঞ্জ বিধানসভার হলদিবাড়ির ব্লকে। অভিযোগ, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বৈদ্যুতিক চুল্লির চিমনি দিয়ে ধোঁয়া উপরে না গিয়ে নিচ দিয়ে বের হয়। আর তাতেই লাশ পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামগুলিতে।
শ্মশানের কাছেই রয়েছে প্রাথমিক স্কুল। দিনের বেলায় স্কুল খোলা থাকে। যদি ওইসময় লাশ পোড়ানো হয় সেই ধোঁয়ার গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে ছোট ছোট পড়ুয়াদেরও। অবিলম্বে চুল্লি মেরামতের দাবিতে সরব হয়েছেন হলদিবাড়ি ব্লকের দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙাপানি মহাশশ্মান সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা থেকে স্কুল পড়ুয়ারাও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে বৈদ্যুতিক চুল্লির ধোঁয়া থেকে রাঙাপানি কলোনি, বারুইপাড়া ও বালাডাঙা এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে এই ৩ এলাকার বয়স্ক ও স্কুল পড়ুয়া শিশুদের স্বাস্থ্যের সমস্যা হচ্ছে। শুধু তাই নয় পড়াশোনার ব্যাঘাতও ঘটছে। শশ্মানে মৃতদেহ পোড়ানো দুর্গন্ধের জন্য ঘর থেকে বাইরে বের হওয়ার যায় না। বেশ কয়েকবার হলদিবাড়ি পুরসভায় জানানো হয়েছে। কিন্তু তারপরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
প্রসঙ্গত, মেখলিগঞ্জ মহকুমায় প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ বাস করেন। গোটা এলাকার লোকজনই মৃতদেহ সৎকারে এই চুল্লির উপরেই নির্ভরশীল। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অধীনে ৪ কোটি ৫৯ লক্ষ ৫০ হাজার ১২৪ টাকা ব্যয়ে হলদিবাড়ি ব্লকের দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙ্গাপানি মহাশ্মশানে গড়ে তোলা হয়েছে এই বৈদ্যুতিক চুল্লিটি। ২০২০ সালের ১২ জুলাইয়ে প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ চুল্লিটির উদ্বোধন করেন। এরপর বৈদ্যুতিক চুল্লির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় হলদিবাড়ি পুরসভার হাতে।
