
জয়িতা চন্দ্র
বল্লভপুরের রূপকথা-র তিনি হলেন রাজপুত্র। সকলের নজর কেড়েছিলেন মন্দার-এ কাজ করেও। সত্যম ভট্টাচার্য বর্তমানে টলিপাড়ার নয়া চর্চার প্রসঙ্গ। তিনবছর পর তিনিই এবার ফিরছেন থিয়েটারের স্টেজে। দায়িত্ব অনেক…। বেড়েছে অভিজ্ঞতা, পাল্টেছে দৃষ্টিভঙ্গী। কামব্যাক প্রযোজনা নিয়ে TV9 বাংলাকে কী বললেন অভিনেতা?
লকডাউনের পর আবারও ফিরে আসা, এবারের গল্পটা কী?
গল্পটি নেওয়া নোবেলজয়ী ইতালীয় নাট্যকার ইটালীয় নাট্যকার লুইজি পিরানদেল্লো (Luigi Pirandello)-র জনপ্রিয় ‘রাইট ইউ আর (ইফ ইউ থিংক সো)’ নাটক থেকে। গল্পটির কেন্দ্রে রয়েছে এক শাশুড়ি ও তার জামাই। আর পুরো গল্প জুড়ে রয়েছে বাকি সমস্ত চরিত্রের এক অতি উদগ্র কৌতূহল, ওই দু’জনকে নিয়ে। যে কৌতূহল থেকে কিছুতেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। প্রতি মুহূর্তে সত্যকে নাগালে পাওয়ার তৃপ্তি, আবার পরমুহূর্তেই তা ফসকে যাওয়ার অস্বস্তি চলতে থাকে গল্প জুড়ে। কী সেই কৌতূহল? তা নিয়েই নাট্যদল ‘হিপোক্রিটস’-এর আগামী উপস্থাপনা ‘তবে তাই’। আমি তো থাকছিই, সঙ্গে রয়েছেন আভেরী সিংহ রায়, সুস্নাত ভট্টাচার্য, অনিন্দ্য সাঁই, শাশ্বতী সিংহ, জিৎ দাশ, মৌমিতা গুপ্ত শর্মা, নিন্নিশা তালুকদার, অনুভব দাশগুপ্ত। নির্দেশনায় থাকছেন সুস্নাত ভট্টাচার্য।
কীভাবে জন্ম ‘হিপোক্রিটস’-এর?
পাড়ার নাটক থেকে শুরু আমার থিয়েটরের সফর। কলেজে তৈরি হয় এই দল। আশুতোষ কলেজ থেকে বেরনোর সময়ই আমরা স্থির করেছিলাম দলটা ছাড়ব না। আর তখন থেকে কোমর বেঁধে নেমে পড়া। এখনও পর্যন্ত মোট ৩০টা প্রযোজনা করেছি আমরা। একটা ইউথ থিয়েটার ফেস্টিভ্যালও করতাম। নাম ছিল ‘পর্যাস’। আটবার হওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়… এটাই শুরু।
লকডাউনের সময়টাতে চর্চা হত?
না, লকডাউনের আগে আমাদের শেষ উপস্থাপনা। তখন কাজ হয়নি খুব স্বাভাবিক কারণেই। আমরা সবাই সেই সময়ে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। সে কারণে সময় করে বসা হচ্ছিল না। নাটকটাও সেভাবে এগোচ্ছিল না। অবশেষে ছ’মাস আগে ‘মন্দার’ ও ‘বল্লভপুরের রূপকথা’র লেখক প্রতীক দত্তকে আমি জানালাম, আমরা একটা ভাল নাটক করতে চাই। ওঁর কাছে ভাল-ভাল গল্প রেডি করা থাকে। জানালাম, আমরা দলটাকে আবারও বাঁচিয়ে তুলতে চাই। শুরু হল কাজ।
বাবা, দাদা এবং তুমি, থিয়েটারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত, বাংলার থিয়েটারের বর্তমান পরিস্থিতিটা ঠিক কেমন বলে আপনি মনে করেন?
বাংলায় থিয়েটার করার সুযোগ, জায়গা, সুবিধে সব রয়েছে। সেটার কোনও অভাব নেই। থিয়েটারের একটা নিজস্ব দর্শক তো রয়েছেই। লকডাউনের পর আবারও যখন হল খোলা শুরু হয়, থিয়েটারের আসন আবারও ভরতে শুরু করল। উদাহরণ হিসেবে ‘চেতনা’, ‘সংস্মৃতি’, ‘হাতিবাগান সঙ্ঘারাম’ দেখুন… একের পর এক কাজ করে চলেছে। আমরাও করেছি। আমাদেরও একটা দর্শক গোষ্ঠী রয়েছে। আশা করি তাঁরা পাশে থাকবেন।
আপনারা যেহেতু তরুণ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করলেন, তাই-ই জিগ্যেস করছি: একটা সময় কিছু বেসরকারি চ্যানেল ধারাবাহিকভাবে থিয়েটার দেখাত। দূরদর্শনের দেখানো হত… এই ডকুমেন্টেশনের ব্যপারে কখনও ভেবেছেন?
ওয়েবে, টিভি বা যেখানেই দেখানোর কথা বলুন না কেন, আমার মনে হয় প্রাথমিকভাবে এই পদক্ষেপটা করা উচিত উদ্যোক্তাদের। চ্যানেল বা ওয়েব এদের তো নিজস্ব একটা সিস্টেম আছে… ওরা যদি মনে করে, তাহলেই এটা সম্ভব। তবে একটা কথা বলতে চাই, থিয়েটারটা মঞ্চেই ভাল লাগে। সকলের সঙ্গে যখন লাইভ একটা কানেকশন তৈরি হয়, সেই মজাটা অন্য কোথাও নেই। আবার একটা নাটকের অনেকগুলো শো হয়ে গেল, তখন সেটার ডকুমেন্টেশনও প্রয়োজন। হয়তো কাস্টে সমস্যা, কেউ একজন নেই। বা সেটা আর তৈরি করা সম্ভব নয়, তখন সেটা হারিয়ে যায়। সেটা রেখে দেওয়া সত্যিই প্রয়োজন। নাটক দেখার পাশাপাশি একটা আর্কাইভ্যাল ভ্যালুও থাকে। যেমন অনির্বাণদাদের (অভিনেতা, পরিচালক তথা থিয়েটারকর্মী অনির্বাণ ভট্টাচার্য) ‘দেবীসর্পমস্তা’ যদি দেখেন বা ব্রাত্য বসুর ‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’-এর কথা যদি বলেন, অনলাইনে এগুলো পার্টে-পার্টে আছে। ভিউজ়ও বিশাল। তাই নিঃসন্দেহে এটা থেকে যাওয়া তো প্রয়োজন।
‘মন্দার’, ‘বল্লভপুর’ করে সত্যম কি থিয়েটারের স্টেজে আরও বেশি পরিণত?
হম, শেষ করা থিয়েটার এই দু’টো কাজের আগে। ফলে এখন তো অনেক কিছু পাল্টেছে। বুঝতে পারছি কোথায়, কী করা উচিত। আরও গভীরে গিয়ে বিষয়গুলোকে সহজভাবে ধরতে পারছি। কার কাজ কী, কীভাবে কাজটাকে গোছাব, সেই বিষয়ে সামান্য হলেও অভিজ্ঞ হয়েছি বলে মনে হচ্ছে। কাজটা অনেকটা সহজ হয়ে গিয়েছে। মানে আমার কাছে প্রোডাকশনের ছবিটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর নিজেকে অভিনেতা হিসেবে সামান্য পরিণত মনে করছি। অভিনেতা তথা দলের কর্মী হিসেবে অভিজ্ঞতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ‘বল্লভপুর’ করার পর, নিজের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস জন্মেছে। বাকিটা তো দর্শক বলবে।
সত্যম তো এখন টিমের সেলিং পয়েন্ট?
অভিনয়ের থেকেও বেশি টিমের ভরসা হচ্ছে টিকিট বিক্রি। দর্শক আনার ভরসাটা আমার উপর এখন অনেক বেশি। অনেকেই বলছেন যে, আমায় স্টেজে দেখতে চান, একটা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে আমারও আশা, কিছু মানুষ নিশ্চয়ই আসবেন। আমাদের কিছু লয়্যাল অডিয়েন্স তো রয়েছে।