জেলে যাওয়া রাজপালের সঙ্গে হঠাৎ অমিতাভের নাম জড়িয়ে গেল কেন? প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য

এরপরই দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন, পাওনা না মেটানো পর্যন্ত ছবির মুক্তি আটকে দেওয়ার দাবি জানান। যদিও ডিসেম্বরেই প্রথম চেকের প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা মেটানো হয় এবং স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।

জেলে যাওয়া রাজপালের সঙ্গে হঠাৎ অমিতাভের নাম জড়িয়ে গেল কেন? প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য

Feb 22, 2026 | 5:32 PM

৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় দিল্লি হাইকোর্টে অন্তর্বর্তী জামিন মিলেছে কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের। এরই মধ্যে সামনে এল চমকে দেওয়ার মত তথ্য। রাজপালের আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায়ের দাবি, রাজপালের চেক বাউন্স মামলার সঙ্গে জড়িয়ে বিগ বির নাম। কী হয়েছিল?

ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। ‘আতা পাতা লাপাতা’ ছবির জন্য ব্যবসায়ী মাধব গোপাল আগরওয়াল রাজপালকে ৫ কোটি টাকা ধার দেন। একাধিক লিখিত চুক্তি হয়, এমনকি তিনটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয় অগস্ট পর্যন্ত। শেষ চুক্তি অনুযায়ী পাঁচটি চেক ইস্যু করা হয়, যা ডিসেম্বর ২০১২ থেকে জমা পড়ার কথা ছিল।

প্রথমদিকে সব কিছু স্বাভাবিকই চলছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরে ছবির সংগীত প্রকাশ অনুষ্ঠানে আচমকাই বদলে যায় পরিস্থিতি। কোথায় বাঁধল গিঁট?

রাজপালের আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায়ের দাবি, ওই অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগকারী নাকি তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজপালের দল জানায়, বচ্চন কোনও পারিশ্রমিক বা সুবিধা ছাড়াই অনুষ্ঠানে এসেছেন— তাই এমন আয়োজন সম্ভব নয়। সেই সিদ্ধান্তেই ক্ষুব্ধ হন অভিযোগকারী।

এরপরই দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন, পাওনা না মেটানো পর্যন্ত ছবির মুক্তি আটকে দেওয়ার দাবি জানান। যদিও ডিসেম্বরেই প্রথম চেকের প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা মেটানো হয় এবং স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।

২০১৩ সালে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। আইনজীবীর দাবি, সেই চুক্তিতে আগের সব শর্ত বাতিল হয়ে যায়। ২০১৬ সালে আবার নতুন চুক্তি হয়, তাতে মোট ১০.৪০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত জানায়, টাকা আদায়ের প্রক্রিয়া হবে নির্দিষ্ট আইনি পথে।

১.৯০ কোটি টাকা দেওয়াও হয়। বাকি টাকার জন্য এক গ্যারান্টর ১৫ কোটির সম্পত্তি জামানত রাখতে চান। কিন্তু অভিযোগ, তা মানা হয়নি। বরং কারাবাসের আবেদন করা হয়।

আইনজীবীর বক্তব্য, যে চেকগুলো বাতিল হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোই আবার চালু করে ২০১৮ সালে রাজপালকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জরিমানা ধার্য হয় ১১.৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে কারাদণ্ডের নির্দেশ— যা একই কারণে একসঙ্গে চলতে পারে কি না, তা নিয়েই এখন আইনি প্রশ্ন উঠে আসছে।

এখন সকলেই অভিনেতার পুরোপুরি আইনি জট কাটার অপেক্ষায়।